গাজীপুরে জানান দিচ্ছেন প্রার্থীরা

গাজীপুর প্রতিনিধি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আলোচনা ঘিরে গোটা দেশে বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ধাপে ধাপে সারা দেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলোর ভোট গ্রহণ সম্পন্ন করার একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা সাজাচ্ছে।

গাজীপুরে দলীয় সমর্থন পেতে জেলার প্রায় সব ইউনিয়নেই বিএনপির একাধিক নেতা গণসংযোগ এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। তাঁরা মাঠে থেকে প্রার্থী হওয়ার জানান দিচ্ছেন। ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছাবিনিময়, বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুশলবিনিময়, উঠান বৈঠক এবং সামাজিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন তাঁরা।

বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় সমর্থন পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দল এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না দিলেও জাতীয় পার্টিও নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে জানা গেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুরের পাঁচটি আসনের মধ্যে বিএনপি চারটিতে এবং একটি জামায়াতে ইসলাম জয়ী হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও বিএনপি ও জামায়াত তাদের ধরে রাখতে চেষ্টা করছে। তবে জেলার প্রায় সব ইউনিয়নেই বিএনপির একাধিক নেতা গণসংযোগ করছেন। দলীয় সমর্থন পেতে তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। এ ক্ষেত্রে অনেকটা নির্ভার জামায়াত। দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, গাজীপুরের সব ইউনিয়নে জামায়াত একক প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দল এককভাবে প্রার্থী দেবে বলে জানা গেছে। গাজীপুর জেলায় পাঁচটি উপজেলায় মোট ৩৯টি ইউনিয়ন পরিষদ আছে। এর মধ্যে গাজীপুর সদর উপজেলায় চারটি, কালিয়াকৈরে নয়টি, শ্রীপুরে আটটি, কাপাসিয়ায় ১১টি এবং কালীগঞ্জে সাতটি।

বৃহস্পতিবার সরেজমিন দেখা গেছে, গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়া ও শ্রীপুরের প্রহলাদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা ব্যানার, ফ্যাস্টুন, বিলবোর্ড টাঙিয়ে তাদের প্রার্থিতার কথা জানান দিচ্ছেন। বিভিন্ন সড়কে, অলিগলিতে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বিভিন্ন আকারের বিলবোর্ড দেখা গেছে। এসব ব্যানার ও বিলবোর্ডে ইউনিয়নের উন্নয়নের অঙ্গীকার এবং দোয়া ও সমর্থন চাওয়া হয়েছে। তবে ভোটারদের সঙ্গে কথা বললে তারা নির্বাচন নিয়ে এখনই কিছু বলতে রাজি হননি। তারা বলছেন, আগে নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ ও প্রার্থী ঘোষণা হলেই তারা ভেবে দেখবেন কাকে ভোট দিয়ে এলাকার প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন।

গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ড. চৌধুরী ইশরাক আহমদ সিদ্দিকী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে হয় না। বিএনপি একটি বড় দল। এখানে অনেক প্রার্থী থাকতে পারে। তবে বড় দল হিসেবে আমরা চাই তাদের মধ্য থেকে একক প্রার্থী থাকুক। দল থেকে সে চেষ্টাই করা হবে।’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গাজীপুর জেলা আমির ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ইউপি নির্বাচন এবার দলীয়ভাবে হচ্ছে না। আমরা প্রত্যেক ইউনিয়নে এককভাবে সমর্থন দেওয়ার জন্য চেষ্টা করছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights