সচ্ছল হবে পাহাড়ের ১০০ নারী ও পরিবার
অনলাইন ডেস্ক
টেকনাফের রানিয়া থেকে তেঁতুলিয়ার আছিয়া। তাঁরা এখন বেশ ভালো আছেন। সংসারে সচ্ছলতা ফিরেছে তাঁদের। রানিয়া, আছিয়ার মতো আরো অনেক নারীই এখন স্বাবলম্বী। বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন পেয়ে সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তিন হাজারের বেশি নারী স্বাবলম্বী হয়েছেন। নিজের আয়ে সংসারের হাল ধরার চেষ্টা করছেন তাঁরা।
সেই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি পার্বত্য জেলা বান্দরবানের পাঁচটি উপজেলার ১০০ অসচ্ছল নারীকে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে সেলাই সচ্ছল হবে পাহাড়ের ১০০ নারী ও পরিবারমেশিন তুলে দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। সেলাই মেশিন বিতরণ শুরু হয়েছিল লামা উপজেলা থেকে। এরপর পর্যায়ক্রমে আলীকদম, বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি এবং সর্বশেষ অনুষ্ঠানটি ছিল দুর্গম রুমা উপজেলায়। খাড়া পাহাড়ি রাস্তা বেয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম রুমার মুনলাই পাড়া কালচারাল সেন্টারে উপস্থিত হয়েছিল ঢাকা থেকে সেলাই মেশিন বিতরণ করতে যাওয়া বসুন্ধরা শুভসংঘ টিম।
সেখানে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে নানা বয়সী ২০ জন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালি নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। প্রত্যেককে দুটি করে গাছের চারাও দেওয়া হয়েছে। আয়োজনে অতিথি ছিলেন রুমা থানার ওসি মানস বড়ুয়া, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা জাবেদ রাউজান, রুমা অগ্রবংশ অনাথালয়ের পরিচালক নাইন্দিয়া থেরসহ স্থানীয় পাড়ার প্রধান ও বিএনপির নেতারা। পাহাড়ঘেরা রুমা উপজেলার প্রত্যন্ত জনপদে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। অনেক নারী সংসারের অভাব-অনটনের মধ্যেও জীবিকা নির্বাহ ও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করছেন।
এমন বাস্তবতায় বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগ তাঁদের আত্মকর্মসংস্থান ও পরিবেশ সংরক্ষণ দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে স্থানীয় লোকজন। ছোটবেলায় মা-বাবা দুজনকেই হারিয়েছেন রুমা উপজেলার অগ্রবংশ অনাথ আশ্রমের নাইউচিং মার্মা। এখানেই তাঁর বেড়ে ওঠা। পড়াশোনাও করেছেন। এখন নিজে কিছু করতে চান। বসুন্ধরা শুভসংঘ থেকে প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন পেয়ে এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন। জীবনের কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
নাইউচিং বলেন, ‘ছোট থেকে অনাথ আশ্রমেই বড় হয়েছি। এই সেলাই মেশিন আমার নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সাহস আরো বাড়িয়ে দিল।’ একই অনুষ্ঠানে সেলাই মেশিন পেয়েছেন চাময়া ম্রো। বাবা মেনয়াং ম্রো মারা গেছেন, মা মানসিক রোগে আক্রান্ত। দুই বোন মিলে জুম চাষ করে সংসারের খরচ চালানোর পাশাপাশি বান্দরবান সরকারি কলেজে অনার্সে পড়াশোনা করছেন চাময়া। সেলাই মেশিন পেয়ে তিনি বলেন, ‘এটি আমার জন্য নতুন আয়ের পথ তৈরি করবে এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহায়তা করবে। বসুন্ধরাকে অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’
রুমা থানার ওসি মানস বড়ুয়া বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের উদ্যোগে এই দুর্গম অঞ্চলের অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন বিতরণ একটি অত্যন্ত মানবিক ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এর মাধ্যমে নারীরা আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন এবং পরিবারের আর্থিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। এই মহৎ উদ্যোগের জন্য রুমাবাসীর পক্ষ থেকে বসুন্ধরা গ্রুপকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। আশা করি, ভবিষ্যতেও তারা এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখে গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করতে কাজ করে যাবে।’
উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মো. জাবেদ রাউজান বলেন, ‘বসুন্ধরা গ্রুপের উদ্যোগে সেলাই প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন বিতরণ কার্যক্রম অত্যন্ত মহৎ ও সময়োপযোগী। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নারীরা দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন, যা তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করবে। এমন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বসুন্ধরা গ্রুপকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আশা করি, ভবিষ্যতেও তারা নারীর ক্ষমতায়ন ও সমাজকল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।’
রুমা অগ্রবংশ অনাথালয়ের পরিচালক নাইন্দিয়া থের বলেন, ‘রুমা উপজেলার অসচ্ছল নারীদের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন বিতরণ করায় বসুন্ধরা গ্রুপকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। দুর্গম এই এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তারা যে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা সত্যি অনেক প্রশংসনীয়। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারী ও কিশোরীরা দক্ষতা অর্জন করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে এবং বেকারত্বমুক্ত হয়ে পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে। বসুন্ধরা শুভসংঘ ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখুক।’
