প্রেমিকাকে গুলির পর আত্মহত্যা যুবকের, স্কুলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক

অনলাইন ডেস্ক

ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরিতে একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঢুকে সাবেক প্রেমিকাকে গুলি করে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন এক যুবক। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) চিলড্রেনস একাডেমি স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। পুরো ঘটনাটি স্কুলের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে।

নিহত শিক্ষিকার নাম নিশাত ফাতিমা (২৬)। তিনি প্রায় এক বছর ধরে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছিলেন। অভিযুক্ত যুবক মোহাম্মদ সৌদ (২৭)। পুলিশ জানিয়েছে, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াকে কেন্দ্র করে সৌদ ক্ষুব্ধ ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই আক্রোশ থেকেই তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

পুলিশ ও সিসিটিভি ফুটেজের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া ডট কম জানায়, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ব্যাগে পিস্তল নিয়ে স্কুলে প্রবেশ করেন সৌদ। পরে তিনি ফাতিমার শ্রেণিকক্ষে গিয়ে তাকে বাইরে নিয়ে আসার চেষ্টা করেন। ফাতিমা যেতে না চাইলে তার হাত ধরে টেনে দোতলার বারান্দায় নিয়ে যান তিনি।

সেখানে দুজনের মধ্যে কিছুক্ষণ কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ব্যাগ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র বের করে ফাতিমাকে কয়েক রাউন্ড গুলি করেন সৌদ। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন ওই শিক্ষিকা। এরপর একই অস্ত্র দিয়ে নিজের মাথায় গুলি করেন সৌদ। গুলির শব্দে স্কুলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ভয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে। তবে ততক্ষণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনাটি পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সামনেই ঘটেছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ঘটনার পর অভিভাবকদের ডেকে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বাড়ি পাঠানো হয়। স্কুল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সেখানে প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

লখিমপুর খেরি থানার পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পাশাপাশি কীভাবে একজন বহিরাগত অস্ত্র নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করলেন, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। নিহত দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

এদিকে ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কীভাবে একজন ব্যক্তি অস্ত্র নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারলেন, তা খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights