দক্ষতা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জলবায়ু অভিবাসন কেন্দ্রের সংযোগ স্থাপনে কর্মশালা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং সরকারি-বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জলবায়ু অভিবাসন কেন্দ্রের কার্যকর সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে কুড়িগ্রামে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অ্যাকসেস প্রকল্পের আওতায় হেলভেটাস বাংলাদেশের সহযোগিতায় এবং ইএসডিওর বাস্তবায়নে বুধবার কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার জুমেরা হোটেলের হলরুমে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় কুড়িগ্রাম সদর, উলিপুর ও নাগেশ্বরী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে জলবায়ু অভিবাসন কেন্দ্রের ২০ জন প্রতিনিধি এবং প্রশিক্ষণপ্রত্যাশী ৭ জন অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী ইউনিয়নগুলোর মধ্যে রয়েছে হলোখানা, ভোগডাঙ্গা, পাঁচগাছি, বুড়াবুড়ি, ধামশ্রেণী, ধরনীবাড়ী, বেরুবাড়ী, নুনখাওয়া ও কালীগঞ্জ।

কর্মশালায় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নেন। কর্মশালার উদ্বোধন করেন কুড়িগ্রাম সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহ. হুমায়ুন কবির। তিনি সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সুযোগ-সুবিধা ও সেবার বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করেন। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তাঁদের উৎসাহিত করেন।

এ সময় কুড়িগ্রাম কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ মেহেদী হাসান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুর রশিদ এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক জয়ন্তী রানী উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, সুযোগ-সুবিধা ও সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের তথ্য ও পরামর্শ দেন।

কর্মশালায় বেসরকারি দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। এর মধ্যে কুড়িগ্রামের একটি স্থানীয় দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং ইকো ইনস্টিটিউট ফর ট্রেনিং ডেভেলপমেন্টের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালক তাঁদের প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও কারিগরি বিষয়ের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তাঁরা প্রশিক্ষণপ্রত্যাশীদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা দলীয়ভাবে কাজ করে নিজ নিজ এলাকার সম্ভাব্য প্রশিক্ষণ চাহিদা, দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা চিহ্নিত করেন। এসব সুযোগ কাজে লাগাতে তাঁরা বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনাও প্রণয়ন করেন।

আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন এবং তাঁদের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে জলবায়ু অভিবাসন কেন্দ্র, সরকারি দপ্তর ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কর্মশালায় অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা প্রণীত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করার অঙ্গীকার করেন।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাস্তুচ্যুত ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন এবং জীবিকার সুযোগ সম্প্রসারণে সরকারি-বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে জলবায়ু অভিবাসন কেন্দ্রের এ ধরনের সংযোগ ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights