বেহাল সড়কে গাড়ি চলে ‘হেলেদুলে’

মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা

সিলেট-কুমিল্লা মহাসড়ক। এই সড়ক আবার কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামে গেছে। তবে সিলেট-কুমিল্লা মহাসড়কের ২২০ কিলোমিটারের মধ্যে ৫৪ কিলোমিটার সড়ক কুমিল্লা সড়ক বিভাগের আওতাধীন। সিলেট থেকে প্রতিদিন শত শত পাথরের ট্রাক কুমিল্লা হয়ে চট্টগ্রাম যায়। কিন্তু এই মহাসড়কের ৪০ কিলোমিটার বেহাল অন্তত দুই যুগ ধরে। সম্প্রতি সরেজমিন এ সড়কে দেখা গেছে কোথাও বড় বড় গর্ত। কোথাও সড়ক এবড়োখেবড়ো। সড়কজুড়ে পরিবহনগুলো চলে হেলেদুলে। প্রায়ই বড় বড় ট্রাক ও বাস গর্তে আটকা পড়ে। এতে শুরু হয়ে তীব্র যানজটের। অপরদিকে যুক্ত হয়েছে সংস্কারজনিত ভোগান্তি। প্রতিদিন যাত্রীদের মহাসড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। গত পরশু ও গতকাল ময়নামতী, কংশনগর, জাফরগঞ্জ, কালিকাপুর, ফুলগাছতলা, দেবিদ্বার, পান্নারপুল, ভিংলাবাড়ী ও কোম্পানীগঞ্জ পর্যন্ত অন্তত ২০ কিলোমিটার অংশ ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়কের কোথাও সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। কোথাও উঠে গেছে পিচ। বৃষ্টির পানি জমে অনেক স্থানে গর্ত হয়েছে। এতে ঝুঁকি নিয়েই বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল চলাচল করছে। এদিকে কংশনগর ও জাফরগঞ্জ বাজারে মহাসড়কে বাজার ও অটোরিকশা পার্কিং করায় যানজট বাড়ছে। চালকদের অভিযোগ, বেহাল মহাসড়কের কারণে গাড়ির যন্ত্রাংশের ক্ষতি যেমন বাড়ছে, তেমনি সময়ও নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে পণ্যবাহী যানবাহনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় মূল মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা ছিল। ধীরগতির যানবাহনের জন্য দুই পাশে সার্ভিস লেন রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। কুমিল্লার ময়নামতী থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ধরখার পর্যন্ত প্রায় ৫৪ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রস্থ প্রায় ১৮ ফুট। চার লেনে উন্নীত করা হলে তা প্রায় ৬০ ফুটে উন্নীত হওয়ার কথা। প্রকল্পটির ২০২২ সালে কাজ শুরু হয়ে ২০২৬ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নানা জটিলতায় মূল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি।

সম্প্রতি সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপির সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের (হাসনাত আবদুল্লাহ) নোটিশের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, দ্রুত সংস্কার ও প্রশস্তকরণের মাধ্যমে কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহাসড়কের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা থেকে দেবিদ্বার পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়ক ৩৪ ফুটে প্রশস্ত করার লক্ষ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।

এ নির্মাণকাজে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। সম্প্রতি মহাসড়কের কয়েকটি অংশে সংস্কারকাজ শুরু হলেও ধীরগতির কাজ, এক লেন বন্ধ রেখে যান চলাচলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সংস্কারকাজ চলায় অনেক স্থানে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। কংশনগর এলাকার ব্যবসায়ী জামিল হোসেন জানান, সড়কের দুরবস্থার প্রভাব স্থানীয় ব্যবসাবাণিজ্যেও পড়ছে। পণ্য পরিবহনে বেশি সময় লাগায় পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। সড়ক বিভাগ কুমিল্লার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম ভূঞা বলেন, এ মহাসড়কের ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার অংশ সংস্কার করা হচ্ছে, আগামী জুনে সংস্কার কাজ শেষ হবে। বাকি ২০ কিলোমিটারের কাজ আগামী বছর শুরু হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights