দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ- মোবাইলে অশ্লীল ভিডিও ধারনের অভিযোগে থানায় এজাহার দায়ের
দিনাজপুর প্রতিনিধি :
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে স্কুলে যাওয়ার পথে
পনের বছরের এক স্কুলছাত্রীকে মোটরসাইকেলে তুলে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অপহৃত ছাত্রীর মা মুর্শিদা খাতুন বাদী হয়ে চিরিরবন্দর থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহারের এজাহারভুক্ত আসামীরা হলেন— পার্বতীপুর উপজেলার কাশিপুর (হিন্দু পাড়া) এলাকার মোঃ রানা ইসলাম (২১), মোঃ সামসুল ইসলাম (৪৫), মোঃ আবেদুর রহমান (২২) এবং মোঃ সাদেকুল মোল্লা (৫০) সহ ৫ জন।
মামলা সূত্র জানা যায়, ভুক্তভোগী ছাত্রী কুতুবডাঙ্গা বাজারস্থ সান ফ্লাওয়ার রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুলের ১০ম শ্রেণীর ছাত্রী। বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে রানা ইসলাম তাকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। বিষয়টি পরিবারকে জানানো হলে রানা কে সতর্ক করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রানা মোবাইলে ওই ছাত্রীকে অপহরণের হুমকি দেয়।
পরবর্তীতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ সকালে ওই ছাত্রী বাড়ি থেকে স্কুলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়। পথে কুতুবডাঙ্গা বাজারের পশ্চিম পাশে রানা সহ কয়েক জন দুটি মোটরসাইকেল নিয়ে তার পথরোধ করে এবং হত্যার হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে উচিংপুরের দিকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর স্বজন ও স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি করে আসামীদের বাড়িতে গেলে আসামীর পরিবার থেকে তাদের অপমান ও অপদস্ত করে বাডি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে আবেদ আলী নামে একজন শিক্ষকসহ স্থানীয় মাতব্বরদের সহায়তায় মেয়েটিকে তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এবং শিক্ষক আবেদ আলী মামলা না করার জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন।
অপহত হওয়ার পর ১৭ ই সেপ্টেম্বর চিরিরবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি এবং ২১ শে সেপ্টেম্বর চিরিরবন্দর থানায় একটি নারী নির্যাতন মামলা দায়ের করেন অপহতের মা মুর্শিদা বেগম।
মুর্শিদাবাদ বেগম জানান চেতনা নাশক ওষুধ খাইয়ে তার মেয়ের অশ্লীল ছবি তুলেছে অভিযুক্ত রানা।
মেয়েটি উদ্ধারের পর দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষার সম্পূর্ণ হয়েছে।
এবং আসামিদের ধরতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে চিরিরবন্দর থানা পুলিশ।
