অচল চুয়েটে দায়িত্ব নিলেন নতুন ভিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা গতকালও তৃতীয় দিনের মতো আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। গতকাল অব্যাহত ছিল কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি। হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা। বন্ধ ছিল ক্লাস, ল্যাব ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন, প্রতিবাদী মশালমিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে অচলাবস্থার অবসানে প্রধানমন্ত্রী বরাবর খোলা চিঠিও দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে বিবৃতি দিয়েছে চুয়েটের বিভিন্ন ব্যাচের অ্যালামনাই। এদিকে ড. সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের মাঝেই গতকাল দায়িত্ব নিয়েছেন নতুন ভিসি অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। গতকাল তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে যোগদানপত্র পাঠানোর মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অধ্যাপক শরীফুল আলম নিজে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা যায়, কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির ফলে গতকালও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি বিভাগে বিভিন্ন বর্ষ ও সেমিস্টারের পূর্বনির্ধারিত চূড়ান্ত পরীক্ষা হয়নি। গতকাল সকাল ৮টা থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেওয়া শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। সেখান থেকে ফটকের পাশেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে জড়ো হন তারা। এরপর সেখান থেকে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শ্রেণিকক্ষে তালা লাগানো ছিল। বেলা সাড়ে ১১টায় শহীদ মিনারের সামনে শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন থেকে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি খোলা চিঠিও দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার বরাবর। পরে সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয় শান্তিপূর্ণ মশালমিছিল।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক ড. সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মঈনুল ইসলাম বলেন, এ আন্দোলনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে অংশ নিয়েছেন। তাই পরীক্ষা হচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে। দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় গত ২১ সেপ্টেম্বর তাঁকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এ খবর প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই দিন রাতেই উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিল শেষে উপাচার্য ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। পরদিন সকাল থেকে শুরু হয় সর্বাত্মক শাটডাউন ও গণ অবস্থান কর্মসূচি। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠনও শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে মানববন্ধন করেন। কার্যত এরপর থেকেই অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ক্যাম্পাসে অচলাবস্থা তৈরি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights