চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ১৩, হাসপাতালে ৯০১
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯০১ জন ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ১৩ জন। শুক্রবার বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ।
তিনি জানান, ভর্তি হওয়া ৯০১ জনের মধ্যে প্রাপ্ত বয়স্ক রোগী ৮৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬১০ জন, ২২৩ জন এবং শিশু ৬৮ জন। এসময় সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮০২ জন। মারা গেছেন ১৩ জন। মৃতদের মধ্যে কিশোরী, কৃষক, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ আছেন।
রামেক হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ১৯-২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাত দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন যথাক্রমে ২০, ৩১, ২৬, ২৯, ২৪, ৪২ ও ২৫ জন। এ হিসাবে সপ্তাহে মোট নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন ১৯৭ জন। অন্যদিকে, একই সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১২, ১৮, ২৭, ২৫, ২৫, ৪৬ ও ৪০ জন। অর্থাৎ সাত দিনে মোট ১৯৩ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ।
এই এক সপ্তাহে ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর মো. আনোয়ার মন্ডল (৫২) নামে তানোরের এক ব্যক্তি মারা যান। পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর মারা যান বাঘমারার ১৬ বছর বয়সী সাথী রাণী। ২২ সেপ্টেম্বর আব্দুল করিম (৪৫) নামে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক কৃষকের মৃত্যুর তথ্য দেওয়া হয়। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর মোসা. নাসরিন (৩০) নামে রাজশাহীর বোয়ালিয়ার এক চাকরিজীবীর মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়। ২১ সেপ্টেম্বরও একজনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে। তবে হাসপাতালের দেওয়া তথ্যে তাঁর মৃত্যুর কারণ উল্লেখ করা হয়নি।
মৃতদের মধ্যে আনোয়ার মন্ডল, সাথী রাণী ও নাসরিনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম উল্লেখ করা হয়েছে। নাসরিন ২০ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় মারা যান। তিনি প্রথমে ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন, পরে আইসিইউতে নেওয়া হয়।
এক সপ্তাহের দৈনিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৪ সেপ্টেম্বর রামেকে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি—৪২ জন। এর আগের দিন ভর্তি হন ২৪ জন এবং ২৫ সেপ্টেম্বর নতুন করে ভর্তি হন ২৫ জন। ২৫ সেপ্টেম্বরের হিসাব অনুযায়ী, হাসপাতালে ডেঙ্গুতে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৬ জন। এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর এই সংখ্যা ছিল ১০৭ জন, যা সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। পরবর্তী তিন দিনে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা কমে ৮৬ জনে নেমেছে।
তবে প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি ও রোগী ছাড়পত্র পাওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটায় হাসপাতালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ জানান, নাসরিনের মৃত্যুর কারণ ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোম। শুক্রবার গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে নতুন করে ২৫ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর বিপরীতে ৪০ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। হাসপাতালে ৮৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন।
