খেয়াঘাট আছে, পথ নেই ঘাটে পৌঁছানোর

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

নদী পারাপারের জন্য নৌকা আছে, খেয়াঘাটও আছে, কিন্তু ঘাটে পৌঁছানোর পথ নেই। জোয়ারের সময় পানিতে তলিয়ে যায় ঘাটে যাওয়ার পথ। আর ভাটার সময় সেখানে জমে থাকে হাঁটুসমান কাদা।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মাঝের খেয়াঘাট এলাকার এই চিত্র দীর্ঘদিনের।

স্থানীয়রা জানান, আন্দারমানিক নদীর এক পাড়ে টিয়াখালী, অন্য পাড়ে মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন। এই দুই ইউনিয়নের নদীর পাড়ের কয়েক গ্রামের মানুষের জন্য এই খেয়াঘাটটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রোগী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন এ পথে যাতায়াত করেন।

কিন্তু সংযোগ পথের অভাবে বর্ষা মৌসুম ও জোয়ারের সময় তাদের ভোগান্তি বাড়ে। পায়ে হেঁটে যাওয়ারও সুযোগ থাকে না। অনেকেই বাধ্য হয়ে বিকল্প পথে বা অন্যের বাড়ির ওপর দিয়ে ঘুরে ঘাটে পৌঁছান। এটি টিয়াখালী ইউনিয়নের অংশের ঘাটের চিত্র। অন্য প্রান্ত মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের অংশ তুলনামূলক ভালো হলেও বৃষ্টির সময় সেখানে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ভাটার সময় কাদা মাড়িয়ে খেয়ায় ওঠা যাত্রীদের জন্য কঠিন হয়ে যায়।

খেয়াঘাটের মাঝি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘জোয়ারের সময় এই ঘাটে আসার পথটি পানিতে তলিয়ে যায়, আর ভাটায় হাঁটুসমান কাঁদা থাকে। মানুষজন ঠিকমতো চলাচল করতে পারে না। অনেক সময় যাত্রী না থাকায় সারাদিন বসে থাকতে হয়।’

খেয়াঘাট এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, ‘জোয়ারের সময় এই রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল করতে পারে না। ছোটোবেলা থেকেই রাস্তার এমন অবস্থা দেখে আসছি। অথচ শিক্ষক, শিক্ষার্থীরাও এই পথ ব্যবহার করেন। রাস্তা উঁচু করে দিলে সমস্যার সমাধান হবে।’

খেয়াযাত্রী মো. হানিফ সিকদার বলেন, এই খেয়াঘাটির দুই পাড়েই সমস্যা রয়েছে। তবে উত্তর পাড়ের অবস্থা বেশি খারাপ। বেড়িবাঁধ থেকে খেয়াঘাট পর্যন্ত রাস্তাটি উঁচু করে নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হবে বলে মত তার।

মিঠাগঞ্জ সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এ এলাকায় দুটি মাদ্রাসা ও একটি উচ্চবিদ্যালয় রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষক এই খেয়া ব্যবহার করেন। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও রোগীদের দুর্ভোগে পড়তে হয় বেশি। সংযোগ সড়কটি উঁচু করা ছাড়া, সমস্যা স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

কলাপাড়া এলজিইডির প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি উপজেলা পরিষদের মাসিক মিটিংয়ে উত্থাপন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights