বগুড়ার আকাশ ঢাকছে নকশাবহির্ভূত ভবনে
আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া
বাংলাদেশের অন্যতম বাণিজ্যিক শহর বগুড়া। যে শহর ঘিরে উত্তরবঙ্গের কৃষি সরঞ্জাম ও পণ্যের হাব তৈরি হয়েছে। সেই শহর এখন ঘিঞ্জি শহরে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নগরীতে অনুমোদিত নকশার বাইরে চলছে ভবন নির্মাণ। মূলত পৌরসভা থাকাকালে এ শহরে পাল্লা দিয়ে অনেক বহুতল ভবন হয়েছে; যেগুলোর বেশির ভাগের অনুমোদন নেই। আবার কোথাও নকশা অনুমোদনের আবেদন করেই শুরু হয়েছে নির্মাণকাজ। দীর্ঘদিন এসব অনিয়ম চললেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ ছিল না। তবে এবার নড়েচড়ে বসেছে নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশন প্রশাসন। তারা ঘোষণা দিয়েছে নকশাবহির্ভূত ও অনুমোদনহীন ভবন চিহ্নিত করে অবৈধ অংশ ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া মহানগরী এলাকায় নকশাবহির্ভূত ভবনের সংখ্যা ১ হাজারের বেশি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বহুতল ভবন রয়েছে। যেগুলো অনুমোদিত নকশার শর্ত লঙ্ঘন করে নির্মিত হয়েছে। ইতোমধ্যে জরিপে প্রায় ১৩০টি বহুতল ভবনের সন্ধান পাওয়া গেছে; যেগুলোর কয়েকটি পৌর প্রশাসন থেকে ছয় তলার অনুমোদন নিয়ে ১০ থেকে ১২ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছে।
জানা যায়, বগুড়া মহানগরীতে দ্রুত জনবসতি ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাড়ার পাশাপাশি বহুতল ভবন নির্মাণের প্রবণতাও বেড়েছে। সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল শাখার তথ্যানুযায়ী, বিলুপ্ত পৌর প্রশাসনের সময়ে প্রতি বছর গড়ে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার ভবনের নকশা অনুমোদন দেওয়া হতো। সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর ভবন নির্মাণের চাহিদা ও নকশা অনুমোদনের আবেদন আরও বেড়েছে। তবে ভবন নির্মাণের অনুমোদন বাড়লেও অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণকাজ হচ্ছে কি না তা নিয়মিত তদারকিতে রয়েছে বড় ধরনের ঘাটতি। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় নির্মীয়মাণ ভবনগুলো নিয়মিত পরিদর্শন ও মনিটরিং করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ। এ সুযোগেই অনেক ভবন মালিক অনুমোদিত নকশার বাইরে অতিরিক্ত তলা বা স্থাপনা নির্মাণ করছেন।
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মাণ করা ভবনের মালিকদের ইতোমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এসব ভবনের অবৈধ অংশ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া শেষ হলে নকশাবহির্ভূত অংশ ভেঙে ফেলার কাজ শুরু করা হবে।
বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী মো. আল মেহেদী হাসান বলেন, ‘নকশাবহির্ভূত বহুতল ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে। শিগগিরই এসব ভবনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।’ তবে তিনি মন্তব্য করেন, লোকবলের অভাবে মনিটরিং করা কঠিন হচ্ছে। বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন বলেন, ‘অবৈধ ভবন চিহ্নিত করার কাজ চলছে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের কারিগরি সহায়তাও প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর অবৈধ ভবনের অংশ ভেঙে ফেলা হবে।
