যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূকে নির্যাতন, কেটে দেওয়া হলো চুল
নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর:
যৌতুকের দাবিতে যশোরের মণিরামপুরে ফারজানা আক্তার সুমি (৩০) নামে এক গৃহবধূকে ঘরে আটকে রেখে মাথার চুল কেটে দেওয়া এবং কাঠের চলা দিয়ে দফায় দফায় পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী মাহাবুর রহমানের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় সুমিকে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সুমি কেশবপুর উপজেলার মাধবপুর গ্রামের হাসান আলীর মেয়ে। তার স্বামী মাহাবুর রহমান মণিরামপুর উপজেলার ষোলাকুল গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুমি জানান, বুধবার সকালে যৌতুকের দাবিতে মাহাবুর তাকে ঘরে আটকে রেখে জোর করে মাথার চুল কেটে দেন এবং শারীরিক-মানসিক নির্যাতন চালান। পরে তাকে ঘরে আটকে রেখেই তিনি বাইরে চলে যান। শুক্রবার সকালে একই দাবিতে ফের ঘরে ঢুকে কাঠের চলা দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে তাকে গুরুতর জখম করেন মাহাবুর।
খবর পেয়ে সুমির মা চম্পা খাতুন শুক্রবার বিকেলে প্রতিবেশীদের সহায়তায় জামাইয়ের বাড়ি থেকে মেয়েকে উদ্ধার করেন। রাত ১০টার দিকে চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. বিচিত্র মল্লিক জানান, সুমির মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা এখন আশঙ্কামুক্ত।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু সাঈদ জানান, এ ব্যাপারে শনিবার দুপুর পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। তবে লোকমুখে বিষয়টি জানার পর এ ব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়ার জন্য তিনি থানার ডিউটি অফিসারকে বলেছেন। বিস্তারিত জানার পর এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ওসি।
