নানা সংকটে পার দেড় দশক
সাইদ মেমন, বরিশাল
প্রতিষ্ঠার দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট কাটছে না। শ্রেণিকক্ষ, আবাসন ও শিক্ষকসংকটে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে সংকট সমাধানের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদনের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মামুন উর রশিদ বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষ সংকটের সমাধানে ভবন নির্মাণের জন্য অনুমতি পেয়েছি। অর্থ বরাদ্দ হলেই কাজ শুরু হবে। শিক্ষকসংকট কাটাতে ইতোমধ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে চাহিদা দেওয়া হয়েছে। অনুমতি পেলে আরও শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। ছাত্রাবাসসহ অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। এরপর আমরা ডিপিপি তৈরি করব।’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ২০১২ সালের ২৪ জানুয়ারি চারটি অনুষদে ৬টি বিভাগের ৪০০ শিক্ষার্থী নিয়ে বরিশাল জিলা স্কুলের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কীর্তনখোলা নদীর তীরে ৫০ একর জায়গায় স্থায়ী ক্যাম্পাসে যায় এটি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদান পরিচালিত হচ্ছে মাত্র ৩৬টি শ্রেণিকক্ষে। পাঠদানের জন্য অন্তত ৭৫টি শ্রেণিকক্ষ প্রয়োজন। প্রয়োজনের তুলনায় ঘাটতি রয়েছে ৩৯টি কক্ষ। শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা কম হওয়ায় অধিকাংশ বিভাগকে একই কক্ষ একাধিক ব্যাচের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে হচ্ছে। কোনো কোনো বিভাগে ছয়-সাতটি ব্যাচের জন্য রয়েছে মাত্র একটি বা দুটি কক্ষ। ফলে একটি ব্যাচের ক্লাস শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য ব্যাচকে অপেক্ষা করতে হয়। কক্ষসংকটের কারণে অনেক সময় খোলা মাঠে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হচ্ছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ক্লাস মিস হলে বিকল্প সময় বের করা কঠিন হয়ে যায়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি আবাসিক হলে মোট আসনসংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৯২০টি। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার। অর্থাৎ প্রতি ছয়জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছে মাত্র একটি আবাসিক আসন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৮০ শতাংশেরও বেশি শিক্ষার্থী এখনো হল-সুবিধার বাইরে থেকে মেস কিংবা ভাড়া বাসায় উচ্চ ব্যয়ে শিক্ষাজীবন চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। আবাসিক সুবিধার সীমাবদ্ধতার কারণে হলে আসন পাওয়া শিক্ষার্থীদেরও পড়তে হচ্ছে নানা ভোগান্তিতে।
আবাসন ও শ্রেণিকক্ষের সংকট ছাড়াও রয়েছে অপ্রতুল খেলার মাঠ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে একটি মাত্র খেলার মাঠ। আসল কথা হলো সংস্কারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কোনো খেলাধুলাই হচ্ছে না। আর লাইব্রেরি থাকলেও নেই পর্যাপ্ত সিটের ব্যবস্থা। রবিউল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে। যার কারণে মানসম্মত শিক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। একটি ব্যাচের ক্লাস চলাকালীন অন্য ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করা বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। এতে স্বাভাবিকভাবে পাঠদান ও গ্রহণ দুটোই ব্যাহত হয়।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে কর্মরত আছেন ২১০ শিক্ষক। তাঁদের মধ্যে ৬২ জন শিক্ষাছুটি নিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে অবস্থান করছেন। নিয়মিত পাঠদান করাচ্ছেন ১৪৮ জন। মোট শিক্ষার্থী ১০ হাজার ১৪৫ জন। সে হিসাবে গড়ে ৬৯ শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন শিক্ষক পাঠদান করাচ্ছেন।
