হরমুজ সংকট নিরসনে আলোচনাই পথ, ট্রাম্পকে বার্তা ইরানের

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরও কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত শর্ত পূরণ ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর নির্ভর করছে।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আরাকচি বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের শর্ত স্পষ্ট। অচলাবস্থা কাটানোর একমাত্র পথ হলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে চলতি সপ্তাহে ইরান সাত দিনের একটি শান্তি প্রস্তাব দেয়। কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে জানায় তেহরান। প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং আঞ্চলিক সংঘাতে সাময়িক বিরতি আনার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

তবে শনিবার ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দেওয়ার জন্য ইরান সমঝোতায় যেতে চাইছে, কারণ তারা বড় ধরনের চাপের মধ্যে রয়েছে।

তবে আরাকচি জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি তেহরানকে জানানো হয়নি। তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত অবস্থান জানার অপেক্ষায় রয়েছে ইরান। এরপর সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ও বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে চাপ বাড়িয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প বারবার দাবি করছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম জানায়, ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। সংবাদমাধ্যমটির উদ্ধৃত মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরান মার্কিন শর্ত পূরণ করবে কি না, তা নিয়ে ট্রাম্পের সংশয় রয়েছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনাও তিনি সহযোগীদের জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এর মধ্যেও মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা আগেই জানিয়েছিলেন, দুই পক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনা ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি শুক্রবার জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর ব্যাপারে দেশটি প্রস্তুত। তবে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের অবস্থান কঠোর। রয়টার্সকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শান্তি প্রস্তাব গ্রহণ করা হলেও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নিজেদের অধিকার থেকে সরে আসবে না ইরান।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও বলেছেন, পরমাণু কর্মসূচি ও অন্যান্য বিষয়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত তেহরান। তবে কোনো ধরনের চাপ বা জবরদস্তি মেনে নেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে চাপ, হুমকি ও হামলার বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করবে।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাতের পর কয়েক দফা সাময়িক বিরতি এলেও আবারও হামলা-পাল্টা হামলা হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ নিহত হওয়ার পাশাপাশি ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সময়ে ইরান ও তাদের মিত্রদের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশও সংঘাতের প্রভাবের মধ্যে পড়েছে।

সূত্র: রয়র্টাস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights