প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্নের প্রক্রিয়ায় ফিরছে এনবিআর
রাশেদ হোসাইন
ব্যবসাকে সহজ করা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের হিসাব-নিকাশের বাড়তি ঝামেলা কমানোর উদ্দেশে চালু করা হয়েছিল ত্রৈমাসিক ভ্যাট রিটার্ন ব্যবস্থা। কিন্তু চালুর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই ভ্যাট পরিশোধের এ নিয়মে আবার বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে তিন মাস পরপর ভ্যাট রিটার্ন জমা ও অর্থ পরিশোধের বিধান করা হলেও বাস্তবে তাতে রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ধস নেমেছে। নতুন নিয়মের কারণে সরকারি কোষাগারে সঠিক সময়ে নগদ অর্থ জমা হচ্ছে না। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সরকারের নিয়মিত পরিচালন ব্যয়ে। চালুর প্রথম দুই মাসেই গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ভ্যাট আদায় কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ বা ৪ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা। একই সঙ্গে রিটার্ন জমা দেওয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কমে এসেছে। দেশের চলমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি খরচসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যয় মেটাতে রাজস্ব ঘাটতি সরকারকে বড় চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। ফলে সরকারি অর্থ দীর্ঘদিন ব্যবসায়ীদের হাতে আটকে থাকা বন্ধ করতে এবং রাজস্ব প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে অধ্যাদেশ আদেশের মাধ্যমে দ্রুত আগের মতো প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন জমার প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, মোট রাজস্বের প্রায় ৩৮ শতাংশই আসে ভ্যাট থেকে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই ও আগস্ট) মোট ১৭ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকার ভ্যাট আদায় হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআরের মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু ভ্যাট খাত থেকেই ২ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে।
বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আইনুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী করতে হলে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এর জন্য এনবিআরের প্রচলিত কর সংগ্রহ পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। বিদ্যমান করদাতাদের ওপর নতুন করে করের বোঝা না চাপিয়ে করের আওতা বা নেট ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করতে হবে। অর্থনীতির যে নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে, সেগুলোকে কর জালের আওতায় এনে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। আর এ পুরো প্রক্রিয়া সফল করতে এনবিআরের প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বহুলাংশে বাড়ানো জরুরি।
