গাকৃবির পঞ্চম সমাবর্তনে যোগ দিতে সম্মতি রাষ্ট্রপতির
অনলাইন ডেস্ক
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) পঞ্চম সমাবর্তনে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থাকার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামী ১৮ মার্চ ২০২৭ বিশ্ববিদ্যালয়টিতে এ সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি গাকৃবি পরিদর্শনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন গাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক অর্জন, গবেষণা ও উদ্ভাবনে অগ্রগতি, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সাফল্য এবং দেশের কৃষি ও কৃষকের কল্যাণে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অগ্রযাত্রার কথা শুনে রাষ্ট্রপতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। দেশের কৃষি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিকাশে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে গাকৃবিকে পরামর্শ দেন তিনি। সাক্ষাৎকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহিদুর রহমান, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ এবং রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল্লাহ মৃধা উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান রাষ্ট্রপতিকে জানান, গবেষণা, উদ্ভাবন, একাডেমিক উৎকর্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে গাকৃবি ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এ সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে গাকৃবির চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অর্জন এ অগ্রযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। এ ছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষস্থানীয় অবস্থান এবং বৈশ্বিক পরিসরে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
উপাচার্য আরও জানান, গবেষণায় অর্থায়ন বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ, একাডেমিক মানোন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নেও বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে গাকৃবিতে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যচাহিদা পূরণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং কৃষির টেকসই উন্নয়নে গবেষণা জোরদার করা হচ্ছে বলেও রাষ্ট্রপতিকে জানান উপাচার্য। এর অংশ হিসেবে উপকূলীয় অঞ্চলের উপযোগী ও লবণাক্ততা-সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবন, মাঠপর্যায়ে কৃষিপ্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং দুটি টেকনোলজি ভিলেজ অধিক জনবহুল এলাকায় স্থানান্তর ও বহুমুখীকরণের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। গবেষণালব্ধ উদ্ভাবন কৃষকের বাস্তব উপকারে কাজে লাগানোর বিষয়েও বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্ব দিচ্ছে।
সাক্ষাৎকালে শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। ২০২৪ সালের জুলাই-পরবর্তী পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি সংবেদনশীল থাকা, তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং পারস্পরিক আলোচনা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান তুলে ধরেন উপাচার্য।
উল্লেখ্য, মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান ২০২৬ সালে কৃষিক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ ‘হুজ হু’ পুরস্কার অর্জন করেন।
