মার্কিন সেনার বিরুদ্ধে ব্রিটিশ নারীকে নিপীড়নের অভিযোগ, তদন্ত হস্তান্তর নিয়ে বিতর্ক

অনলাইন ডেস্ক

ব্রিটিশ এক নারীকে যৌন নিপীড়ন ও শ্বাসরোধের অভিযোগে অভিযুক্ত মার্কিন বিমানবাহিনীর এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনায় যুক্তরাজ্যের পুলিশকে দায়ী করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের (এমওডি) কর্মকর্তারা।

তাদের মতে, ক্যামব্রিজশায়ার পুলিশের এ সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান তথ্য অধিকার আইনে পাওয়া নথির বরাতে এ খবর প্রকাশ করেছে।

ঘটনাটি ক্যাপ্টেন জ্যাকব উলফসনকে ঘিরে। তার বিরুদ্ধে ক্যামব্রিজে নিজের ফ্ল্যাটে সারা স্টিল নামের এক ব্রিটিশ নারীকে যৌন নিপীড়ন ও শ্বাসরোধের অভিযোগ ওঠে।

কিন্তু ক্যামব্রিজশায়ার পুলিশ দ্রুত তদন্তের নিয়ন্ত্রণ মার্কিন সামরিক পুলিশের হাতে ছেড়ে দেয়। ফলে উলফসনের বিচার ইংল্যান্ডের কোনও ফৌজদারি আদালতে হয়নি। প্রতিবেশী সাফোকের একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে সামরিক আদালতে তার বিচার হয়।

এ ঘটনায় গত জুনে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন প্রকাশের পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সমালোচনা করে। তারা জানায়, উলফসনের বিচারে যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষের সম্পৃক্ত না থাকার বিষয়টি ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’।

এরপর গুরুতর অপরাধের তদন্ত কেন ও কীভাবে মার্কিন সামরিক পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের উদ্যোগ নেয় সরকার।

এমওডির কর্মকর্তাদের মতে, কয়েক দশক আগে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক সদস্যদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ তদন্তের প্রাথমিক অধিকার যুক্তরাজ্যের পুলিশের। কেবল সীমিত কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তদন্তের এখতিয়ার পেতে পারে- যেমন, দায়িত্ব পালনকালে অপরাধ সংঘটিত হলে অথবা অন্য কোনও মার্কিন সামরিক সদস্য বা সামরিক সম্পত্তির বিরুদ্ধে অপরাধ হলে।

৮ জুলাইয়ের এক স্মারকে ওয়াশিংটনে কর্মরত এমওডির কর্মকর্তারা লেখেন, স্টিলের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে তদন্তের এখতিয়ার দেওয়ার মতো পরিস্থিতি ‘প্রাথমিকভাবে দেখা যাচ্ছে না’। এর আগে এক ই-মেইলেও তারা বলেছিলেন, এ ঘটনায় সিদ্ধান্তটি চুক্তির স্পষ্ট শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশের এক কর্মকর্তা ৬ জুলাইয়ের ই-মেইলে ক্যামব্রিজশায়ার পুলিশের পদক্ষেপকে ‘ভুল’ বলে অভিহিত করেন।

ক্যামব্রিজশায়ার পুলিশ জানিয়েছে, মার্কিন বিমানবাহিনীর আইনজীবীদের দেওয়া নথিপত্রের সহায়তায় তারা ঘটনাটি পর্যালোচনা করছে। ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে বলে দাবি করেছে বাহিনীটি। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights