নেতানিয়াহুর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ কি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে?

অনলাইন ডেস্ক

গাদি আইজেনকটকে ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের সমর্থনে প্রস্তাব দিয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট। জোটটির এই সমর্থনের ফলে ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে বিরোধীদলীয় নেতা আইজেনকটের পক্ষে এখন সংসদ সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭-তে। এতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকার প্রচেষ্টায় বড়সড় ধাক্কা লেগেছে।

বৃহস্পতিবার এক ঘোষণায় জয়েন্ট লিস্ট জানায়, তারা গাদি আইজেনকটকেই সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য সুপারিশ করবে। এর আগের দিন বুধবার অপর আরব নেতৃত্বাধীন দল রা’আমের আটজন আইন প্রণেতা আইজেনকটকে সমর্থন জানান। গত সপ্তাহের সাধারণ নির্বাচনে দল দুটি যৌথভাবে রেকর্ড ১৯টি আসন লাভ করে। এটাই তাদের ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার কারা গঠন করবে তা নির্ধারণে এক নির্ধারক ভূমিকা পালন করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট ৫৩টি আসন এবং আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পায়। সরকার গঠনের জন্য পার্লামেন্টে ন্যূনতম ৬১টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। নির্বাচনের এই ফল উভয় শিবিরকেই স্বাধীনভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন সংখ্যার চেয়ে পিছিয়ে রাখে, যার ফলে আরব নেতৃত্বাধীন দল এবং ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন জোট আলোচনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

জয়েন্ট লিস্ট জানিয়েছে, তাদের এই সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেতানিয়াহু এবং তার সরকারকে ক্ষমতায় ফিরে আসা থেকে প্রতিরোধ করার জন্য জনগণের দাবিরই প্রতিফলন। সংস্থাটি আরও জানায়, তাদের সমর্থনের উদ্দেশ্য হলো আইজেনকট ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার আসন ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেওয়া এবং বর্তমান সরকারকে প্রতিস্থাপনের সুযোগকে জোরদার করা।

তিনটি আরব নেতৃত্বাধীন দল নিয়ে গঠিত এই জোট জানায়, বিরোধী দলগুলো নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা, আরব নাগরিকদের বিরুদ্ধে উস্কানি এবং তাদের নির্বাচনী পছন্দসমূহের বৈধতা ক্ষুন্ন করার প্রচেষ্টাকে পর্যাপ্ত চ্যালেঞ্জ জানাতে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও তারা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

তবে এই সমর্থনের অর্থ এই নয় যে আরব দলগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দেবে। জয়েন্ট লিস্ট উল্লেখ করেছে যে তারা সরাসরি সরকারে অংশ নিয়ে মন্ত্রী পদের দায়িত্ব নেওয়ার বদলে ক্ষমতাসীন জোটের বাইরে থেকে বিরোধী সরকারকে সমর্থন জানাতে প্রস্তুত। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব বজায় থাকা অবস্থায় তারা সরকারে যোগ দেওয়ার বিপক্ষে অবস্থান ধরে রেখেছে।

অন্যদিকে আইজেনকট এবং তার বিরোধী সঙ্গীরাও আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সাথে সহযোগিতার বিষয়ে নানা বিভাজনের সম্মুখীন হয়েছেন। বিরোধী ব্লক সম্ভাব্য অংশীদারদের জন্য কিছু শর্ত নির্ধারণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলকে একটি ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, সামরিক নিয়োগকে সমর্থন করা এবং হামাসের নিন্দা জানানো। কিছু বিরোধী ব্যক্তিত্ব আরব আইনপ্রণেতাদের উপর নির্ভর করার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছেন, আবার অন্যরা যুক্তি দিয়েছেন যে নেতানিয়াহুর শাসনের অবসান ঘটাতে তাদের সমর্থন অপরিহার্য।

৬৬ বছর বয়সী আইজেনকট ইসরায়েলের পাশাপাশি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ধারণাকে বারবার প্রত্যাখ্যান করে এসেছেন। ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রকাশ্যে সৌদি আরবের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য ওকালতি করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে অঞ্চলে ইরানের প্রভাব প্রতিহত করতে দুই দেশের একসাথে কাজ করা উচিত। সে সময় তেহরানকে মোকাবেলা করার জন্য ইসরায়েল রিয়াদের সাথে গোয়েন্দা তথ্য ভাগ করে নিতে ইচ্ছুক বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

সূত্র: মিডলইস্ট আই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights