কুমিল্লায় কাশ্মীরি মেডিকেল শিক্ষার্থী মৃত্যু, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তা

কুমিল্লা প্রতিনিধি

চট্টগ্রামে কর্মরত ভারতীয় হাইকমিশনারের সেকেন্ড সেক্রেটারি (কনস্যুলার ও শিক্ষা) মৃন্ময় কুমার সিং (এম কে সিং) বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজে আসেন। এ সময় তিনি জম্মু-কাশ্মীরের মেডিকেল শিক্ষার্থী আদনান আলতাফের মা নিঘাত বেগমকে সান্ত্বনা দেন।

একই সঙ্গে ভারতের জম্মু-কাশ্মীর, মেঘালয়, মহারাষ্ট্র, কেরেলা, আসাম, মনিপুর, পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাটের যেসব শিক্ষার্থী ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজে পড়ে তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

তিনি শিক্ষার্থী, কলেজ অধ্যক্ষ, কলেজের পরিচালক ও বিভিন্ন মহলের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর তিনি আলাদাভাবে ভারতের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাস ঘুরে দেখেন। যে হোটেলে আদনান সোমবার রাতে ভাত খেয়েছেন, সেই হোটেলে গিয়ে মালিক ও কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলেন। এরপর তিনি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পশ্চিম সিং গ্রামের যে পুকুরে আদনান আলতাফের লাশ পাওয়া গেছে সেখানে যান। পরিদর্শন শেষে তিনি নিঘাত বেগমের সঙ্গে কথা বলেন। তাকে সান্ত্বনা দেন। যত দ্রুত সম্ভব লাশ দেশে পাঠানোর কথা জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহ মো. সেলিম, পরিচালক অধ্যাপক ডা. খোরশেদ আলম কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকিরুল ইসলাম, উপাধ্যক্ষ পিযুষ কর্মকার ও বুড়িচং থানার ওসি মো. লুৎফুর রহমান।

জানতে চাইলে মৃন্ময় কুমার সিং বলেন, আমি মূলত এসেছি ভারতের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মনোবল বাড়াতে। তাদের পাশে ভারত সরকার আছে, এটা জানাতে। ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজের ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখতে। এই প্রতিষ্ঠান আমার দেশের শিক্ষার্থীদের বিষয়ে খুবই যত্নবান। তবুও এই মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়।

আদনান ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ থেকে এবার তৃতীয়বর্ষে চূড়ান্ত পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। গত বুধবার সকালে তার লাশ পাওয়া যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার পশ্চিম সিং এলাকার একটি পুকুরে। আদনান আলতাফ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights