ঝিনাইদাহের অশিক্ষিত হিন্দু ব্যবসায়ীর বিদ্যালয়ের মনোনয়ন জমা, প্রত্যাহার করায় মারধর ও চাঁদাদাবী
নিজস্ব প্রতিবেদক-
জানেন না লেখাপড়া। জোরপুর্বক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনের
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর তা প্রত্যাহার করায় মারধর ও মোটা অংকের চাঁদা দাবীর অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বিজয়পুর গ্রামে। এ ঘটনায় সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই ব্যবসায়ী।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী সত্যপদ ঘোষ বলেন, আমি গ্রাম থেকে দুধ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করি। আমার মেয়ে দুর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ে। ওই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির ভোটের জন্য আমাকে প্রার্থী হতে বলেন স্থানীয় ফজলু মেম্বর, উত্তর দূর্গাপুর গ্রামের জিন্নাহ, বিল্লাল, ইসরাইল, আবু বক্করসহ কতিপয় ব্যক্তি। আমি লেখাপড়া না জানায় প্রার্থী হতে অনীহা প্রকাশ করি। এতে আমার উপর ক্ষুব্ধ হয় তাঁরা। শনিবার রাতে আবুর বক্কর ও ফজলুর নেতৃত্বে ৭-৮ জনের একটা দল জোরপূর্বক আমাকে ঝিনাইদহ চক্ষু হাসপাতালের সামনে নিয়ে এসে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে তাঁরা বলে আগামীকাল সকালে ১০লাখ টাকা নিয়ে বিজয়পুর বাজারে এসে আমাদেরকে দিয়ে যাবি। না দিলে তোদেরকে দেশছাড়া করে দেওয়া হবে।
এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার রাতে পোড়াহাটি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে প্রতিবাদ সভা করেছে ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম হিরণ। তিনি ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানান।
সেসময় ওই এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে এ সকল বিষয় অস্বীকার করে অভিযুক্ত আবু বক্কর ও ফজলুর রহমান বলেন, একটা গোষ্ঠী আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা জানান, এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ব্যক্তি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।তদন্ত করে দোষিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
