কলকাতায় মার্টিনেজের বিতর্কিত সেই অঙ্গভঙ্গি

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের কথা নিশ্চয়ই সকলের মনে আছে। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ফাইনাল ম্যাচে শেষ বেলায় দারুণ দক্ষতায় দুইটি ট্রাইবেকার সেভ করে ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ দিয়েছিলেন দলকে। শুধু তাই নয় এক্সট্রা টাইমের একেবারে শেষ দিকে নিশ্চিত গোল বাচান মার্টিনেজ।

স্বভাবতই ফাইনাল ম্যাচের নায়ক মার্টিনেজের হাতে ওঠে বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার। আর সেই পুরস্কারকে কেন্দ্র করেই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তার হাতে যখন ‘গোল্ডেন গ্লাভস’ তুলে দেওয়া হয়, তা নিয়েই নিজের গোপনাঙ্গে ঠেকানোর ইঙ্গিত করেছিলেন মাটিনেজ। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। আর্জেন্টিনার এই জয়ে সমর্থকরা আনন্দ পেলেও, মার্টিনেজের এমন আচরণ তারা ভালোভাবে নেননি।

সে সময় কাউকে বলতে শোনা গিয়েছিল জয়ের পর মার্টিনেজের মাথা হয়তো খারাপ হয়ে গেছে। কেউ আবার বলেছিলেন আর্জেন্টিনার জয়ের রাতে বিতর্ক বাড়ালেন এমি। যদিও এমন অঙ্গভঙ্গি নিয়ে কোন মন্তব্য করতে চায়নি ফিফা।
কাতারের বদলে কলকাতা। ফের সেই একই অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা গেল মার্টিনেজকে। বাংলাদেশ সফর শেষ করে গত সোমবার বিকালে কলকাতায় পা রাখেন মার্টিনেজ। মঙ্গলবার শহরে বিভিন্ন কর্মসূচির পর বুধবারও বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন মার্টিনেজ।

এদিন কলকাতার কাছেই লেকটাউন শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবে সংবর্ধনা জানানো হয় মার্টিনেজকে। সেখানেই এমিকে ভালোবাসার প্রতীক হিসাবে ‘গোল্ডেন গ্লাভস’ তুলে দেওয়া হয়। আর গ্লাভস নিয়েই সেই পুরনো অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা গেল বিশ্বখ্যাত এই গোলকিপারকে। ওই অনুষ্ঠানে মার্টিনেজের পাশেই উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সর্বময় কর্মকর্তা রাজ্যের ফায়ার সার্ভিস মিনিস্টার সুজিত বসু।

যদিও এদিনের এই অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের অনুরোধেই নাকি সেলিব্রেশনের এমন পোজ দিয়েছেন মার্টিনেজ। মুখ কুঁচকে, একগাল হাসি নিয়ে নাভির ঠিক নিচে গোল্ডেন গ্লাস হাতে নিয়ে সেলিব্রেশন করতে দেখা গেল তাকে। এসময় দর্শকাসন থেকে আওয়াজ, শিষ ভেসে আসে। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মন্ত্রী সুজিত বসুও মুচকি হাসি দেন।

তবে মঙ্গলবারের পর বুধবারেও তাকে এক ঝলক দেখার জন্য ভিড় উপচে পড়ে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবে। শুরুতেই ভিআইপি রোডের ধারে ফুটবলের ঈশ্বর বলে খ্যাত মারাডোনার বেধিতে শ্রদ্ধা জানান মার্টিনেজ। এরপর সেখান থেকে মন্ত্রী সুজিত বসুর সাথে হুডখোলা গাড়িতে চেপে শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবে যান মার্টিনেজ। যাওয়ার সময় ভক্তদের আবদার মেনে ফুটবল কাগজ কিংবা টি-শার্টে অটোগ্রাফ দিতে দেখা যায় তাকে। পরে ক্লাবের পক্ষ থেকে উত্তরীয়, মালা, ফুল, তার একটি ছবি, রসগোল্লা, ক্লাবের নাম লেখা হলুদ জার্সি তুলে দেওয়া হয় আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ী তারকার হাতে। কিছুটা সময় ক্লাবের মাঠে খেলতেও দেখা যায় তাকে।

শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের অনুষ্ঠান শেষ করে কলকাতার লেবুতলা পার্কে বিজেপি নেতা সজল ঘোষের একটি অনুষ্ঠানে যান মার্টিনেজ। সেখানেও মার্টিনেজকে ঘিরে একই রকম উন্মাদনা চোখে পড়ে।দর্শকাসন থেকে এমি এমি চিৎকার ভেসে আসে, মার্টিনেজও হাত নাড়িয়ে তাদের অভিবাদন গ্রহণ করেন। একটা সময় অনুষ্ঠানের সঞ্চালক বারে বারে সমর্থকদের মঞ্চ ফাঁকা করার অনুরোধ জানালেও তা কোন কাজেই আসেনি।

সমর্থকরা বারেই মঞ্চের খুব কাছাকাছি চলে এসে মার্টিনেজের সঙ্গে হাত মেলানোর চেষ্টা করেন, ছবি তোলার চেষ্টা করেন। কলকাতা পুলিশের সদস্য কিংবা মার্টিনেজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষীদেরও কার্যত হিমশিম খেতে হয় সেই উন্মাদনা সামলাতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights