মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই চলছে জাবি ছাত্রলীগ

রুবেল হোসাইন, জাবি

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগের কার্যক্রম। মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬ মাস পরও নতুন কমিটি না হওয়ায় নেতা-কর্মীদের মাঝে হতাশা, ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তৈরি হচ্ছে গ্রুপিং, বাড়ছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৭ ডিসেম্বর জুয়েল-চঞ্চলের নেতৃত্বে গঠিত শাখা কমিটি প্রায় ৫ বছর পর ২০২১ সালের অক্টোবরে বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। পরে গত বছরের ৩ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের ৪২ ব্যাচের শিক্ষার্থী আকতারুজ্জামান সোহেলকে সভাপতি ও দর্শন বিভাগের ৪৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান লিটনকে সাধারণ সম্পাদক করে মাত্র দুই সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র।

ঘোষণা হওয়ার ৩ মাসের মধ্যে কমিটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার নিয়ম থাকলেও ১১ মাস পর ৩৯০ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। এদিকে সহ-সভাপতি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ এ কমিটির প্রায় ১৫০ জন নেতা-কর্মীর ছাত্রত্ব নেই। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টিতে দীর্ঘ ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে নেই কোনো হল কমিটি।
ফলে দীর্ঘসূত্রতায় হতাশ হয়ে অনেক কর্মী সাংগঠনিক পরিচয় ছাড়াই তাদের শিক্ষাজীবন শেষ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির নেতৃত্ব মানতে নারাজ সংগঠনটির অধিকাংশ নেতা-কর্মী। তাদের একাংশই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের তৃতীয় গ্রুপ নামে পরিচিত। এই পরিস্থিতিতে আগামী বছরের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে দ্রুত নতুন কমিটি দিয়ে সংগঠনকে চাঙ্গা করার দাবি জানিয়েছেন নেতা-কর্মীরা।

এ বিষয়ে একাধিক ছাত্রলীগ নেতা অভিযোগ করে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যাওয়ায় শীর্ষ নেতারা এখন সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণের কথা ভাবেন না, তারা নিজেদের আর্থিক স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সংগঠনকে চাঙ্গা করতে নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের সক্রিয় করা প্রয়োজন। নইলে নেতা-কর্মীদের মাঝে বিভক্তি তৈরি হবে, কেউ মাঠ পর্যায়ে থাকবে না।’

৪৬ ও ৪৫ ব্যাচের পদবঞ্চিত একাধিক নেতা-কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন রাজনীতি করেও এখনো সাংগঠনিক পরিচয় পাইনি। এদিকে আমাদের পড়াশোনা শেষ পর্যায়ে। হল কমিটি ঘোষণা করার কথা থাকলেও এখনো করেনি। যা অত্যন্ত হতাশাজনক। সময়মতো নতুন কমিটি ঘোষণা করলে সংগঠনের কার্যক্রমের গতি বাড়ে। আশা করছি, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সার্বিক দিক বিবেচনা করে দ্রুত নতুন কমিটি ঘোষণা করবে। এতে উজ্জীবিত হয়ে নেতা-কর্মীরা নিবেদিতভাবে কাজ করবে।’

তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি জাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান লিটন। তিনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নতুন কমিটির বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ সিদ্ধান্ত নেবে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন বলেন, আমরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটির বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছি। সাংগঠনিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে জানিয়ে দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights