পুত্রবধূকে পুড়িয়ে হত্যায় শাশুড়ির মৃত্যুদণ্ড

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে গৃহবধূকে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে হত্যায় শাশুড়িকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়াও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত পারুল আক্তার (৫০) করিমগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ উলুখলা গ্রামের আনোয়ারুল হক খোকনের স্ত্রী। নিহত গৃহবধূ পাপিয়া আক্তার (১৯) জেলার মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া গ্রামের নাজির মিয়ার কন্যা।

কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট এম এ আফজল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, ২০১৩ সালে করিমগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ উলুখলা গ্রামের আসিকুল হকের সঙ্গে মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া গ্রামের নাজির মিয়ার কন্যা পাপিয়া আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য তাকে চাপ দিতে থাকেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। বাবার বাড়ি থেকে টাকা দিতে না পারায় তার ওপর শুরু হয় নির্যাতন। ২০১৫ সালের ২ মে সকালে পাপিয়া আক্তারকে মারপিট করে তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পরে ৭ মে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহত পাপিয়া আক্তারের ভাই সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে স্বামী, দেবর, শ্বশুর-শাশুড়ি ও ফুফু শাশুড়িকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করিমগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর করিমগঞ্জ থানার তৎকালীন উপ পরিদর্শক এস এম জহিরুল ইসলাম মামলার তদন্ত শেষে পাঁচ আসামির নামেই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালীন সময়ে পাপিয়ার শ্বশুর আনোয়ারুল হক মৃত্যুবরণ করেন।

সাক্ষ্য জেরা শেষে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহত গৃহবধূ পাপিয়ার শাশুড়ি পারুল আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর দুই আসামি পাপিয়ার স্বামী আসিকুল হক ও ফুফু শাশুড়ি বিবি হাওয়াকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। এ মামলার আরেক আসামি অপ্রাপ্ত বয়স হওয়ায় বিষয়টি শিশু আদালতে বিচারাধীন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর স্পেশাল পিপি এডভোকেট এম এ আফজল এবং আসামিপক্ষে ছিলেন এডভোকেট মোজাম্মেল হক মাখন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights