নতুন দল এক সপ্তাহের মধ্যে

নিজস্ব প্রতিবেদক

নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন দেওয়ার সিদ্ধান্ত এক সপ্তাহের মধ্যে নেবে নির্বাচন কমিশন। গতকাল নির্বাচন কমিশনে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত দুই দলের বিষয়ে শুনানি হয়েছে। শুনানিতে উত্থাপিত বাদী-বিবাদীর যুক্তিতর্ক পর্যালোচনার পর নতুন দল নিবন্ধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে ইসি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অন্য নির্বাচন কমিশনাররাও উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আহসান হাবিব খান বলেন, ‘দুটি দলের বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ করেছিলেন তারাও শুনানিতে অংশ নিয়েছেন। অভিযোগকারীরা তাদের বক্তব্য দিয়েছেন অন্য দিকে আত্মপক্ষ বর্ণনা করেছেন দল দুটি। এখন কমিশনাররা বসে দুই পক্ষের বক্তব্য আইন-বিধির আলোকে সুচারুভাবে বিশ্লেষণ করে ব্যবস্থা নেবেন। শুধু তাই নয়, পাশাপাশি দুটি কমিটি কর্তৃক কমিশনে জমাকৃত তদন্ত প্রতিবেদন সেগুলোও বিবেচনায় নেবে কমিশন। এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন এই নির্বাচন কমিশনার।

এদিকে শুনানি শেষে ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম সাংবাদিকদের বলেন, দুটি দলকে যাচাই-বাছাইয়ের পর নিবন্ধন দেওয়ার জন্য তালিকায় রাখা হয়েছিল। একই সঙ্গে দল দুটির বিরুদ্ধে কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তাও জানাতে বলা হয়েছিল। সে অনুযায়ী, শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। এটি একটি বিচারাধীন বিষয়। তাই কিছু বলা ঠিক হবে না। শুনানির যুক্তি-তর্ক পর্যালোচনার পর নিবন্ধন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন কমিশন।
নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন দেওয়ার জন্য যাচাই-বাছাই শেষে প্রাথমিক তালিকায় রেখেছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) ও বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টিকে (বিএসপি)। ইসির দেওয়া সময়ের মধ্যে এই দুটি দলের বিরুদ্ধে মোট তিনটি অভিযোগ পড়ে। বিএনএমকে ভুঁইফোঁড় সংগঠন আখ্যা দিয়ে নিবন্ধন না দেওয়ার জন্য আবেদন জানায় আইনজীবী আবু নাছের খান। আর পৈতৃক সম্পত্তি দখল করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও খানকা দরবার শরিফকে রাজনৈতিক দল হিসেবে উপস্থাপন করায় এবং অন্য দলের নামের সঙ্গে মিল রাখায় বিএসপিকে নিবন্ধন না দেওয়ার আবেদন পড়ে দুটি।

বিএসপির বিরুদ্ধে সম্পত্তি দখলের অভিযোগ করেন দলটির সভাপতি শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদের ছোট ভাই শাহজাদা সৈয়দ শহিদউদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারি ও তার দুই বোন। আর নামের মিল থাকার অভিযোগ তোলেন বাংলাদেশ শ্রমজীবী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি লায়ন আবদুল কাদের জিলানী। শুনানি শেষে অ্যাডভোকেট আলী নাছের খান বলেন, বিএনএম ইসির নিবন্ধনের জন্য কোনো শর্তই পূরণ করতে পারেনি। এ বিষয়ে আমরা যুক্তি উপস্থাপন করেছি। তবে বিএনএম যুগ্ম আহ্বায়ক ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন বলেন, অভিযোগীকারী এবি পার্টির একজন সদস্য। প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে অভিযোগ করেছেন।

বাংলাদেশ শ্রমজীবী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি লায়ন আবদুল কাদের জিলানী বলেন, বাংলাদেশ শ্রমজীবী পার্টি-বিএসপি, ২০১৭ সালে ৬ জুলাই আত্মপ্রকাশ ঘটিয়েছি। হঠাৎ করে একটি রাজনৈতিক সংগঠন এলো, আমাদের বিএসপির সংক্ষিপ্ত নামটি উনি ব্যবহার করলেন। এটা আমি কোনোভাবে মেনে নিতে পারিনি। দলের নাম ডবল হতে পারে না। অন্যদিকে শাহজাদা সৈয়দ শহিদউদ্দিন আহমদ বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটাকে এই দরবারকে পুঁজি করে তার ভাই রাজনৈতিক হাতিয়ার বানাতে চায়। বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির স্থায়ী পরিষদের মেম্বার মো. ইব্রাহীম মিয়া বলেন, আমরা সব শর্ত পূরণ করেছি। যে অভিযোগ ছিল, তা মিথ্যা। বাদী-বিবাদীর সবাই সাংবাদিকদের জানান, কমিশন তাদের বক্তব্য শুনেছেন। পর্যালোচনা করে রায় দেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights