পাবনায় চাঞ্চল্যকর দর্জি হত্যার রহস্য উদঘাটন

পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার ভাঙ্গুড়া চৌবাড়ীয়া হারোপাড়া এলাকার দর্জি হাসিনুর রহমান হাসু (৫৩) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার রিমন ভাঙ্গুড়া রাঙ্গালিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার মো. আতিকুর সরকারের ছেলে।

মঙ্গলবার সকালে পাবনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পাবনা পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী।

পুলিশ সুপার জানান, হাসিনুর রহমান হাসু পেশায় একজন দর্জি ছিলেন। প্রথম স্ত্রী মানসিক অসুস্থ থাকায় পরিবারের সম্মতিতে দ্বিতীয় বিয়ে করেন সাজেদা খাতুনকে। পারিবারিক কলহে সম্প্রতি এক কন্যা সন্তানের জননী সাজেদা খাতুনকে তালাক দেন হাসু। আবারও সাজেদা সংসার করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন। এতে ব্যর্থ হয়ে কবিরাজের দেওয়া তাবিজ হাসিনুরের বাড়িতে পুঁতে রাখতে সাজেদা খাতুন তার বোন জামাই মো. রিমন হোসেনকে পাঠায়।
ভাঙা সংসার জোড়া লাগাতে রিমন সরকার গভীর রাতে হাসিনুরের বাড়ির গেটের সামনে তাবিজ পুঁতে রেখে যায়। হাসু টের পেয়ে রিমন সরকারকে কৌশলে তার রুমে ডেকে দরজা লাগিয়ে দেয় এবং রিমনকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়। এতে ভীত হয়ে রিমন রুম থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে হাসিনুর রহমান তাকে বাধা দেয়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে রিমন ঘরের দরজার পাশে থাকা লোহার শাবল দিয়ে ভায়রা হাসিনুরের মাথায় আঘাত করে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে রিমন হাসিনুরকে মেঝেতে পড়ে থাকা ধারালো দা দিয়ে ঘাড়ের উপর আঘাত করে।

হত্যাকাণ্ড ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য রিমন ঘরের পেছনে শাবল দিয়ে সিঁধ কেটে রাখে। যেন মানুষ ভাবে কোনো চোর চুরি করতে এসে হত্যা করেছে। পুলিশ সুপার আরও জানান, এ হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে চেষ্টা চালায় পুলিশ। তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় ঘাতক রিমনকে দ্রুত গ্রেফতার করে পুলিশ এবং ঘাতকের দেওয়া তথ্য মতে তাবিজ ও হত্যায় ব্যবহৃত শাবল, দা ও রক্ত মাখা শার্ট ও লুঙ্গি টয়লেটের ট্যাংকি থেকে উদ্ধার করা হয়।

এদিকে পাবনা আতাইকুলা চাঞ্চল্যকর কৃষক কুদ্দুস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও অভিযুক্ত প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত হলেন-পাবনা আতাইকুলার স্বরুপপুর এলাকার কাজি আহম্মেদ আলীর ছেলে মো. আকমল হোসেন (৪৫)। পুলিশ জানায়, পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক জানতে পারায় পরিকল্পিতভাবে কুদ্দুসকে হত্যা করে আকমল।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মাসুদ আলম, সদর সার্কেল ডি এম হাসিবুল বেনজীর, সহকারী পুলিশ সুপার (এসএএফ) আরজুমা আকতারসহ জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights