to bcc: me কুড়িগ্রামের পালিত হলো লালন সাঁইজির ১৩৫তম তিরোধান দিবস সাধু সঙ্গ ও ভাব-সংগীতে মুখরিত লালন আখড়াবাড়ী প্রাঙ্গণ

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: ১০.১১.২০২৫
মানবতাবাদী সাধক ফকির লালন সাঁইজির ১৩৫তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুড়িগ্রাম জেলার একমাত্র লালন চর্চাকেন্দ্র নামে পরিচিত ফুলবাড়ী উপজেলার তালুক শিমুলবাড়ীর লালন আখড়াবাড়ীতে আয়োজন করা হয় এক মনোজ্ঞ ‘সাধু সঙ্গ ও ভাব-সংগীত’ অনুষ্ঠানের।

রবিবার (৯ নভেম্বর) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে লালন ভক্ত, বাউল ও অনুরাগীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমবেত হন। ১৪তম এই সাধু সংঙ্গ ও ভাব সংগীত আয়োজনে নেতৃত্ব দেন আখড়বাড়ীর প্রতিষ্ঠাতা ছালেক শাহ ও আখড়াবাড়ীর ভক্তবৃন্দ।

দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে ফকির লালন সাঁইজির মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক দর্শনের উপর আলোচনা হয়। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত পর্যন্ত চলে ভাব-সংগীত ও সাধু সঙ্গের মনোমুগ্ধকর আসর। লালনের অমর বাণী ও সুরের মূর্ছনায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো আখড়াবাড়ী প্রাঙ্গণ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বাউল শিল্পীরা গভীর রাত পর্যন্ত গান পরিবেশন করেন, যা শত শত ভক্ত ও দর্শককে বিমোহিত করে তোলে। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বাউল শিল্পীরা বলেন, লালনের গান শুধু সংগীত নয়, এটি মানবতার পাঠশালা।

উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য রাখেন ফুলবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনোয়ার হোসাইন, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকার, শিমুলবাড়ী লালন আখড়াবাড়ির প্রতিষ্ঠাতা ছালেক শাহ, ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান মুকুল, রংপুর লালন একাডেমির সভাপতি আবু নুঈম, বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী অরণ্য আব্বাস, কুড়িগ্রাম লালন একাডেমির সভাপতি ইউসুফ আলমগীর, সাধারণ সম্পাদক সংগীত শিল্পী শিবলী সাদিক আতিক প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ফকির লালন সাঁই শুধুমাত্র একজন বাউল ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানবতার এক আলোকবর্তিকা। তাঁর গানে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে একতা ও ভালোবাসার বার্তা আছে। লালনের দর্শন আমাদের মানবিক ও উদার হতে শিক্ষা দেবে। তাই নতুন প্রজন্মের মাঝে লালন চর্চা ছড়িয়ে দিতে হবে।

আয়োজকরা জানান, লালন সাঁইজির দর্শন ও প্রেমভিত্তিক মানবধর্মকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে প্রতি বছরই তারা এ আয়োজন অব্যাহত রাখবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights