অধিনায়কত্ব হারানোর বিষয়ে কিছুই জানতেন না রশিদ

অনলাইন ডেস্ক
কিছুদিন আগে আফগানিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব হারিয়েছেন রশিদ খান। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় আফগানরা। এরপরই রশিদকে সরিয়ে ইবরাহিম জাদরানকে টি-টোয়েন্টির নতুন অধিনায়কের দায়িত্ব দিয়েছিল আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

দীর্ঘদিন পর এবার এই ব্যাপারে মুখ খুলেছেন রশিদ খান। রশিদের মতে, বোর্ড ঘোষণা করার পরেই তিনি জেনেছেন, অধিনায়কত্ব আর নেই। আগে থেকে হয়নি কোনো যোগাযোগ।

সম্প্রতি ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রশিদ খান বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, তখন ঠিক কী ঘটেছিল, সে ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। বোর্ড যখন অধিনায়কত্ব পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছিল, তখনই আমি বিষয়টি জানতে পারি।’

রশিদের নেতৃত্বে ঐতিহাসিক কিছু সাফল্য পেয়েছিল আফগানিস্তান। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলেছিল সেমিফাইনালে। হারিয়েছিল বাংলাদেশকেও। রশিদ বলেন, ‘আমার অধিনায়কত্বে আমরা (২০২৪ সালে) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছিলাম, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছিলাম। কিন্তু কখনও কখনও কিছু বিষয় আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে না। তবে এখন আমি বিষয়টি পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছি। আমি অধিনায়ক থাকি বা না থাকি, আফগানিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি গর্বিত এবং আমার যে দক্ষতা ও সক্ষমতা আছে, সেগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি। আমার নিয়ন্ত্রণে যা আছে তা হচ্ছে আফগানিস্তানের হয়ে ভালো করা এবং দলকে জেতানোর চেষ্টা করা।’
সর্বশেষ ভারত সিরিজেও সুবিধা করতে পারেনি আফগানিস্তান। হেরেছে ৩-০ ব্যবধানে, হয়েছে হোয়াইটওয়াশ।

রশিদ বলেছেন, ‘আপনি যদি বারবার মাথায় এই বিষয়টা রাখেন যে আমরা কখনও ভারতকে হারাতে পারিনি, তাহলে বিষয়টি আপনাকে চাপে ফেলবে। তাই ভবিষ্যতে আমাদের নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে হবে, শতভাগ দিতে হবে এবং মাথা থেকে এই বিষয়টি বের করে দিতে হবে যে আমরা কখনও ভারতের বিপক্ষে জিতিনি। তাহলেই আমরা আরও ভালো পারফর্ম করতে পারব এবং তখন ফলাফলও আমাদের পক্ষে আসতে পারে।’

রশিদ বলে যান, ‘মূলত পার্থক্যটা মানসিকতার। দক্ষতার দিক থেকে আমরা এর চেয়ে বেশি ভালো করার সামর্থ্য রাখি, অর্থাৎ আমাদের স্কিল যথেষ্ট ভালো। তবে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যেখানে আমরা একটু পিছিয়ে আছি। আমার মনে হয়, আমরা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি না এবং ব্যাটিংয়ের সময় একটু আবেগপ্রবণ হয়ে উইকেট দিয়ে দিই। এমনটা তখনই হয়, যখন আমরা দ্রুত ম্যাচ জিততে চাই, প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ম্যাচ জিততে চাই না। তখন আমরা একটু জোর করে কিছু করতে যাই এবং ভুল হয়ে যায়।’

পারফরম্যান্সের দিক থেকে আরও উন্নতি করার তাগাদা রশিদ খানের। তিনি জানালেন, ‘সবসময় আমার মাথায় থাকে যে দলের জন্য আরও বেশি রান করার দায়িত্ব যেন পাই এবং ব্যাটিং অর্ডারে আরও ওপরে যেন উঠতে পারি। আমার মনে হয়, সেই দক্ষতা আমার আছে। তবে বাকি সবকিছু কোচ ও অধিনায়কের ওপর নির্ভর করে। আমি শুধু এটুকু বলতে পারি যে, নিজের ব্যাটিং নিয়েও আমি অনেক পরিশ্রম করি। এখানে ভারতে আসার আগে লন্ডনে আমার ব্যক্তিগত ব্যাটিং কোচ নাঈম আমিনের সঙ্গে তিন-চারটি ব্যাটিং অনুশীলন সেশন করেছি। আগে আমি উইকেটের স্কয়ারে শট খেলার চেষ্টা বেশি করতাম, কিন্তু এখন সোজা খেলায় বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। এ জন্য ব্যাটিং টেকনিক, শরীরের ভারসাম্য এবং মাথার অবস্থান নিয়েও কাজ করেছি।’

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর বিদায় নেন আফগানিস্তানের সাবেক প্রধান কোচ জোনাথন ট্রটও। নতুন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন রিচার্ড পাইবাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights