অস্ট্রেলিয়া ১৬১/৪: কোথায় এগিয়ে বাংলাদেশ, কোথায় এখনো শঙ্কা
অনলাইন ডেস্ক
ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই বাংলাদেশের হাতে। প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করার পর অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে ২২৮ রানের বড় লিড নিয়েছে বাংলাদেশ। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাগতিকদের চার উইকেট তুলে নিয়ে দিন শেষ করেছে টাইগাররা।
তবে এখানেই ম্যাচের পুরো হিসাব শেষ হয়ে যাচ্ছে না। দিন শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ১৬১ রান, হাতে আছে আরও ৬ উইকেট। ফলে চতুর্থ দিনের শুরুতেই বাংলাদেশের বোলারদের জন্য বড় পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।
যেসব জায়গায় এগিয়ে বাংলাদেশ
সবচেয়ে বড় সুবিধা বাংলাদেশের ২২৮ রানের লিড। প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান করে বাংলাদেশ শুধু বড় সংগ্রহই গড়েনি, অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে আটকে দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও নিয়েছে।
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়েও ছিল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবদান। তানজিদ হাসান তামিম ১৯৭ বলে ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত করেছেন ৮৪ রান। মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাট থেকে এসেছে ৬৫ রান। মুমিনুল হকও করেছেন ৪৯ রান।
অর্থাৎ একজন ব্যাটারের ওপর নির্ভর না করে কয়েকজনের ব্যাটে ৪২৬ রান পেয়েছে বাংলাদেশ।
বল হাতে আরও বড় সুবিধা পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে থামাতে হাসান মাহমুদ একাই নিয়েছেন ৬ উইকেট। তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন নিয়েছেন দুটি করে উইকেট।
দ্বিতীয় ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডারকে স্বস্তি দেয়নি বাংলাদেশের বোলাররা। ট্রাভিস হেড, জেক ওয়েদারাল্ড, মার্নাস লাবুশেন ও স্টিভেন স্মিথকে ফিরিয়ে ১৬১ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়া এখনো ম্যাচে কেন
বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও অস্ট্রেলিয়া এখনো পুরোপুরি ম্যাচের বাইরে নয়। এর প্রধান কারণ, দ্বিতীয় ইনিংসে এখনো তাদের ৬ উইকেট হাতে আছে।
দিন শেষে ক্রিজে আছেন ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি। গ্রিন ৪৩ এবং ক্যারি ১৯ রানে অপরাজিত। দুজনের জুটি ভাঙতে না পারলে চতুর্থ দিনের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে।
বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে এখন পর্যন্ত বড় কোনো ইনিংস না এলেও গ্রিন ও ক্যারি যদি দীর্ঘ সময় ব্যাট করতে পারেন, তাহলে বাংলাদেশের সামনে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
স্মিথের দুই ইনিংসেও বড় রান নেই
অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বড় ভরসা স্টিভেন স্মিথ। প্রথম ইনিংসে ৭১ রান করেছিলেন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৪ রানের বেশি করতে পারেননি। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে আউট হয়ে ফিরে গেছেন তিনি।
মার্নাস লাবুশেনও দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৩১ ও ১ রান করেছেন। ট্রাভিস হেডের ব্যাট থেকে এসেছে ১৭ ও ২২ রান।
অর্থাৎ অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ ব্যাটাররা শুরু পেলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। বাংলাদেশের জন্য এটি বড় ইতিবাচক দিক।
চতুর্থ দিনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কাজ
বাংলাদেশের সামনে এখন একটাই প্রধান কাজ। অস্ট্রেলিয়ার বাকি ছয় উইকেট দ্রুত তুলে নেওয়া।
অস্ট্রেলিয়া বর্তমানে ১৬১ রানে। বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে ৬৭ রানে। ফলে স্বাগতিকরা যদি বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যায়, তখন ম্যাচের পরিস্থিতি আবার বদলে যেতে পারে।
তাই গ্রিন ও ক্যারির জুটি ভাঙাই হতে পারে চতুর্থ দিনের প্রথম বড় লক্ষ্য। এরপর দ্রুত বাকি ব্যাটারদের ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে যত কম রানে আটকে রাখা যাবে, বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনাও তত বাড়বে।
হিসাবটা এখন বাংলাদেশের পক্ষেই
তৃতীয় দিন শেষে সংখ্যাগুলো বাংলাদেশের পক্ষেই কথা বলছে। ৪২৬ রানের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস ১৯৮। লিড ২২৮ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ১৬১/৪।
বাংলাদেশের ব্যাটাররা বড় সংগ্রহ এনে দিয়েছেন, বোলাররা অস্ট্রেলিয়ার দুই ইনিংসেই চাপ তৈরি করেছেন। তাই এখন পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে বলাই যায়।
তবে টেস্ট ম্যাচে তিন দিনের ভালো পারফরম্যান্সই শেষ কথা নয়। চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনেই অস্ট্রেলিয়ার বাকি ছয় উইকেটের ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারলে বাংলাদেশ জয়ের আরও কাছে পৌঁছে যাবে। আর গ্রিন-ক্যারি জুটি যদি টিকে যায়, তাহলে ২২৮ রানের লিড থাকার পরও ম্যাচে নতুন উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।
