আইসিসিবিতে ভ্রমণপিপাসুদের মেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার (এটিএফ) প্রথম দিনেই জমে উঠেছে। বিশ্ব পর্যটন দিবস ও শীতকালীন ভ্রমণ মৌসুমকে সামনে রেখে আয়োজিত মেলায় ভ্রমণপিপাসু, ট্রাভেল এজেন্সি, ট্যুর অপারেটর ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা অংশ নিচ্ছেন। দেশে-বিদেশে ভ্রমণ গন্তব্য, ছাড়মূল্যের ট্রাভেল প্যাকেজ ও বিনিয়োগ- ইত্যাদি ঘিরে ভ্রমণপিপাসুদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে এ ট্যুরিজম ফেয়ার। গতকাল মেলার উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ২০০টিরও বেশি পর্যটন প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩০০টি স্টল রয়েছে এবারের মেলায়। এখানে হোটেল, রিসোর্ট, এয়ারলাইনস, ট্যুর অপারেটর ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলো তাদের বিভিন্ন পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মেলা চলবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, দেশের পর্যটন খাতের টেকসই বিকাশ ও একে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বেসরকারি বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির (পিপিপি) ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। সরকারি ও বেসরকারি খাত এবং স্থানীয় সম্প্রদায়কে এক হয়ে কাজ করতে হবে। যৌথ অঙ্গীকার ছাড়া পর্যটন খাত কখনো বিকশিত হতে পারে না। মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান মাত্র ২-৩ শতাংশ; এটিকে ৮-৯ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। দেশজুড়ে ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণ চিহ্নিত করে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ পর্যটকবান্ধব নানা সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নেপালের হাইকমিশনার ঘনশ্যাম ভাণ্ডারি, ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কাইনো, মালদ্বীপের হাইকমিশনার শিউনা আলি এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান।

মো. সামীমুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের পর্যটনে সম্ভাবনা অনেক বড়। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার দেশের পর্যটনকে বিশ্ববাজারে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরতে সহায়তা করবে।

এ মেলায় বিটুবি সেশন, সেমিনার, ডেস্টিনেশন প্রেজেন্টেশন, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম ইনভেস্টমেন্ট শোকেস-এর আয়োজন রয়েছে। এ ছাড়া দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ কুপনের র‌্যাফেল ড্রতে বিমান টিকিটসহ বিভিন্ন পুরস্কার জয়ের সুযোগও রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights