আওয়ামী লীগের যাদের হাতে রক্তের দাগ, প্রত্যেকের বিচার হবে: প্রেস সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম বলেছেন, হত্যা, গুম ও খুনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের যাদের হাতে রক্তের দাগ আছে তাদের প্রত্যেকের বিচার হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির ভবিষ্যৎ কি হবে। তবে রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোন পরিকল্পনা অন্তর্বর্তী সরকারের নেই।

রবিবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর প্রেস ইন্সটিটিউ বাংলাদেশ (পিআইবি)’ এ বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরামের (বিএজেএফ) সদস্যদের জন্য কৃষি সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ শফিকুল আলম বলেন, কৃষি খাতে গত ১৫ বছর ধরে চুরির তথ্য দিয়ে পরিচালনা করা হয়েছে। খাদ্য স্বয়ম্ভরতার মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে। প্রতি বছর কয়েক লাখ কোটি টাকার খাদ্য পণ্য আমদানি করা হয়। উৎপাদন না থাকার কারণে দেশে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশে ১৯৭৪ সালের মত এত বড় বিপর্যয় আর কখনো হয়নি।

কৃষি সাংবাদিকতা দেশের নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষি খাতের নানামূখী প্রভাব ও সঠিক তথ্য তুলে আনতে হবে। যেমন এখন কীটনাশক ও বিষের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণে মেয়েদের প্রজনন স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কিনা, চিংড়ির কারণে উপকূলে কি ক্ষতি হচ্ছে সেসব বিষয় দেখতে হবে। বাজারে সিন্ডিকেট আছে সেটি ভাঙ্গা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ডিমের সিন্ডিকেট ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। কৃষিকে টেকসই করতে কাজ করা হচ্ছে। প্রাণ প্রকৃতিকে সুরক্ষা করেই কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। ৭৪ এর মত যেন দেশে দুর্ভিক্ষ না হয় সেদিকে নজর রয়েছে সরকারের।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব বলেন, আওয়ামী লীগের কারো মধ্যে কোন অনুশোচনা নেই। বরং তিনি (শেখ হাসিনা) একের পর এক মিথ্যা বলে যাচ্ছেন। উনি তো আগে তাহাজ্জুদের নামাজের পর থেকে মিথ্যা শুরু করতেন। এখন অব্দি তিনি ওই ট্রেন্ড অব্যাহত রেখেছেন।

নির্বাচন বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে। নির্বাচন কমিশন কিছু টাইম লাইন দিয়েছে। প্রিপারেশন কেমন হবে সেটা নির্ভর করছে অনেকগুলো রিফর্মের উপর। এই রিফর্মগুলোর অনেকগুলোই মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন প্রভাবিত করবে। অনেকেই ভাবাচ্ছেন নির্বাচন খুব দ্রুত করা সম্ভব। সব রাজনৈতিক দলগুলো বসে যদি ঠিক না করি কি পরিমাণ সংস্কার হবে, তার আগে তো কবে নির্বাচন হবে তা বলা সম্ভব নয়। কেউ যদি বলে ফেলে স্থানীয় নির্বাচন আগে হবে। তখন তো অন্য রকমের প্রস্তুতি দরকার হবে।

সেই প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখেই প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের দুটি টাইম লাইন দিয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, যদি কম রিফর্ম হয়, তাহলে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হবে। রাজনৈতিক দলগুলো যদি মনে করে অন্তর্বর্তী সরকারকে দিয়ে আরও কিছু সংস্কার করিয়ে, তাহলে জুন ২০২৬ এর কথা তিনি বলেছেন। আমরা খুব বেশি সময় যে নিচ্ছি এটা ঠিক তা না। খুবই যুক্তিযুক্ত সময়ের কথা তিনি বলেছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের কারো ক্ষমতার প্রতি লোভ নেই।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, দেশের মধ্যবিত্তের যে উল্লম্ফন সেটি ধরে রাখতে হলে কৃষকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠতি করতে হবে। তা না হলে মধ্যবিত্তের ফুটানি থাকবে না। দেশে বাজার অর্থনীতির পরিবর্তে সিন্ডিকেটের অর্থনীতিতে দাড়িয়েছে। কৃষি খাত সহ দেশের সকল জায়গাতে অকৃত্রিম পরিসংখ্যানের ভেল্কি দেখিয়ে উন্নয়ন দেখানো হয়েছে। সেখান থেকে বের হতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএজেএফ সভাপতি ও পিআইবি পরিচালনা বোর্ডেল সদস্য গোলাম ইফতেখার মাহমুদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিএজেএফ সাধারণ সম্পাদক সাহানোয়ার সাইদ শাহীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights