আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা নাটক

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আওয়ামী লীগের আসন সমঝোতা ছিল মেকি, সাজানো নাটক। ভোটের আগের দিন আমাদের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নির্বাচনে যে ফলাফল হয়েছে তাতে আমাদের হৃদয়ে তীব্র ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য এটি শিক্ষা হয়ে থাকবে। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

শামীম হায়দার পাটোয়ারী আরও বলেন, নির্বাচনি ফলাফলে আমরা হতভম্ব। তার নির্বাচনি এলাকা গাইবান্ধা-১ আসন থেকে সাত লাঙল প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। ৭ জানুয়ারির ফলাফলে লাঙল প্রতীকে তার ভরাডুবি অপ্রত্যাশিত। তার আসনসহ সব আসনের কেন এমন হলো তা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করা উচিত। তিনি বলেন, নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে জাতীয় পার্টি বিভক্ত ছিল। আমরা অনেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন সমঝোতা বা জোট করার জন্য চাপ দিয়েছি। নির্বাচনে জাতীয় পার্টি অংশ নেওয়ায় সরকার শতভাগ সুবিধা নিয়েছে। আমাদের কিছু আসনে আওয়ামী লীগ তাদের নৌকা প্রতীক প্রত্যাহার করলেও শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে রেখেছে। তাদের স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে দলের সবাই কাজ করেছে। এ জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম না । শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, জাতীয় পার্টির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে দোদুল্যমান অবস্থানের কারণে প্রার্থীদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। নৌকা প্রত্যাহার হয় ১৭ ডিসেম্বর। এর আগ পর্যন্ত দলের কোনো প্রার্থী মাঠ গোছাতে পারিনি। ১৮ ডিসেম্বরের পর মাঠে গেলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জেলা নেতাদের সমন্বয় করতে প্রচুর সময় গেছে। আবার তাদের ভোটও পায়নি। আশা ছিল সুষ্ঠু ভোট হলে অনেকেই পাস করব। কিন্তু অনেক জায়গায় অসুস্থ ভোট হয়েছে। ভোটারের সংখ্যা ছিল খুব কম। কিন্তু কাস্টিং অনেক বেশি দেখানো হয়েছে। অতিরিক্ত কাস্টিং ভোট আমাদের প্রতিপক্ষের পক্ষে গেছে। সব মিলিয়ে যে ফলাফল হয়েছে তা জাতীয় পার্টির জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। সবকিছু খতিয়ে দেখা উচিত। কীভাগে জাতীয় পার্টিকে উজ্জীবিত করা যায় দলের চেয়ারম্যানকে গভীরভাবে বিবেচনা করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights