আট বছরে ২৬ হাজার ১৩৫ বিচ্ছেদ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জে বেশ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যা। প্রতি মাসে প্রায় ৩০০টি বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে বিগত আট বছরে প্রায় ২৬ হাজার ১৩৫ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। যৌতুকের জন্য নির্যাতন, মাদকাসক্তি, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, দ্বিতীয় বিয়ে, পারিবারিক কলহ, অভাব-অনটন, বনিবনা না হওয়াসহ নানা কারণে এ বিচ্ছেদের সংখ্যা বাড়ছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্র বলছে, ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ জেলায় মুসলিম শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ের রেজিস্ট্রি হয়েছে ১০ হাজার ২০৬টি। এর মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে ৩ হাজার ৬৩৫ জনের। সে হিসাবে এ বছর প্রতি মাসে ৩০২ টিরও বেশি বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ জেলায় মুসলিম শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ের রেজিস্ট্রি হয়েছে ৮ হাজার ৪৬৭টি। এর মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে ৩ হাজার ৫২০ জনের। সে হিসাবে এ বছর প্রতি মাসে গড়ে ২৯৩ টিরও বেশি বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ জেলায় মুসলিম শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ের রেজিস্ট্রি হয়েছে ৭ হাজার ৯৪৫টি। এর মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে ৩ হাজার ৩৫২ জনের। সে হিসাবে এ বছর প্রতি মাসে গড়ে ২৭৯টি বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। ২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ জেলায় মুসলিম শরিয়াহ মোতাবেক বিয়ের রেজিস্ট্রি হয়েছে ৮ হাজার ১৮৩টি। এর মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে ৩ হাজার ১৪২ জনের। সে হিসাবে এ বছর প্রতি মাসে গড়ে ২৬১টিরও বেশি বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। ২০২১ সালের হিসাব অনুযায়ী মুসলিম শরিয়াহ মোতাবেক নারায়ণগঞ্জে বিয়ের রেজিস্ট্রি হয়েছে ৮ হাজার ১৮৩টি। এর মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে ৩ হাজার ১৪২ জনের। সে হিসাবে এ বছর প্রতি মাসে ২৬১টিরও বেশি বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। ২০২০ সালের একটি তথ্য বলছে, ওই বছর জেলায় ৭ হাজার ৩২৬টি বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়। তার মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে ২ হাজার ৫৬৩টি। ২০১৯ সালে ৯ হাজার ৭১৫টি বিয়ের রেজিস্ট্রি হয়েছে। এর মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে ৩ হাজার ২৯৮টি। এর আগের বছর ২০১৮ সালে ১০ হাজার ১২৩টি বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়েছে। বিচ্ছেদ হয়েছে ৩ হাজার ৪৮৩টি। এসব পরিসংখ্যান বলছে নারায়ণগঞ্জে বেশ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বিবাহবিচ্ছেদ। সব মিলিয়ে বিগত ৮ বছরে ২৬ হাজার ১৩৫টি বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। নারায়ণগঞ্জে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম মোল্লা বলেন, মোবাইল আসক্তি, মাদকাসক্তি, পরকীয়া, স্বামী স্ত্রী একে অপরকে সময় না দেওয়া ও ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে না চলাসহ নানা কারণেই এই বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যা বেড়েছে। আর বিচ্ছেদে আমাদের সামাজিক অবক্ষয় দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়া জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights