আবাসিকে ৪৬ হাজার ডিমান্ড নোট জমা, শিল্পে ৩৫৪
জিন্নাতুন নূর
দেশে নতুন করে আবাসিক এলাকার গ্রাহকদের গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে-সম্প্রতি এমন একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এতে বাসাবাড়ির মালিক ও গ্যাসের গ্রাহকরা নড়েচড়ে বসেন। কিন্তু খোদ অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান একে ‘মিথ্যা আশ্বাস’ বলে মন্তব্য করেছেন। আবাসিকে গ্যাসের নতুন সংযোগ দেওয়ার বিষয়টি ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি কর্তৃপক্ষ। একই বিষয়ে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) কর্তৃপক্ষও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, নতুন করে আবাসিকে আর কোনো গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে না। তবে শিল্প খাতে নতুন করে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার বিষয়ে এখনো বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেনি। এ বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল সূত্র জানান, দেশে নতুন করে আবাসিকের গ্রাহকদের গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে না। ১৯ লাখ প্রি-পেইড মিটার প্রকল্পের কাজ চলমান আছে। আর আবাসিকের যাঁরা বৈধ গ্রাহক তাঁদেরও প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনা হবে। আবাসিকে দীর্ঘদিন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকার কারণে এ পর্যন্ত তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কাছে আগের ৪৬ হাজারের মতো ডিমান্ড নোট জমা রয়েছে। আর শিল্প খাতের জন্য নতুন ৩৫৪টি ডিমান্ড নোট জমা পড়েছে। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, আবাসিকের গ্রাহকদের নতুন করে আর গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে না। তবে শিল্প খাতে নতুন গ্যাস সংযোগ দেওয়া বন্ধ হবে কি না এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু শিল্পে গ্যাস সংযোগ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বর্তমানে দেশে গ্যাসের সংকট রয়েছে। এজন্য বাসাবাড়িতে গ্যাসের সংযোগ দেব বলে আমরা মিথ্যা আশ্বাস দিতে পারব না। ভবিষ্যতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়লে হয়তো এ সমস্যার সমাধান হবে।’ এরই মধ্যে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কিছু গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আবাসিকে, বাসাবাড়িতে নতুন বা লোড বৃদ্ধির সংযোগ দেওয়ার যে খবর ছড়িয়েছে তা সম্পূর্ণ গুজব ও ভিত্তিহীন। এতে আরও বলা হয়, সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক আবাসিক বা বাসাবাড়িতে নতুন গ্যাস সংযোগ বা লোড বৃদ্ধির সংযোগ বন্ধ রয়েছে। কিছু প্রতারক জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। এজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয়। এরপর ২০১৩ সালের শেষের দিকে আবারও সংযোগ চালু করা হয়। তবে ২০১৪ সালের পর আবার জ্বালানি বিভাগ থেকে বিতরণ কোম্পানিকে আবাসিকের নতুন আবেদন নিতে নিষেধ করা হয়। সবশেষ ২০১৯ সালে লিখিতভাবে আবাসিক সংযোগ স্থগিত রাখার আদেশ জারি করা হয়।
