আমরাও ছক্কা মারতে পারি: তাওহীদ হৃদয়

অনলাইন ডেস্ক
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে ব্যাট হাতে ঝড় তুলে জাফনা কিংসকে ফাইনালে তুলেছেন তাওহীদ হৃদয়। মাত্র ২১ বলে ৫৪ রানের অপরাজিত ইনিংসে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখার পর ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যকেই বেশি গুরুত্ব দিলেন বাংলাদেশের এই মিডল অর্ডার ব্যাটার। একই সঙ্গে বাংলাদেশি ব্যাটারদের ছক্কা মারার সক্ষমতা নিয়েও আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করেছেন তিনি।

বিদেশের মাটিতে ‘স্টার বয়’ তকমা পাওয়া কেমন লাগছে—এমন প্রশ্নের জবাবে হৃদয় বলেন, ব্যক্তিগত স্বীকৃতির চেয়ে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ে অবদান রাখতে পারাটাই তার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

হৃদয়ের ভাষায়, “আলহামদুলিল্লাহ, খুব ভালো লাগছে। দলের জন্য অবদান রাখতে পেরে আরও বেশি ভালো লাগছে। এটা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ ছিল। পরিস্থিতি যেটা দাবি করছিল, আমি চেষ্টা করেছি সেই অনুযায়ী দলের জন্য যতটা সম্ভব অবদান রাখতে।”

ইনিংসের শুরু থেকেই হৃদয় ছিলেন আক্রমণাত্মক। কেন শুরু থেকেই বাউন্ডারির দিকে ঝুঁকেছিলেন, সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি।

এই ব্যাটার বলেন, “পরিস্থিতি এমন ছিল যে দ্রুত বাউন্ডারি দরকার ছিল। মিশারা (সহব্যাটার) কিছুটা ক্লান্ত ছিল। আমার ব্যাটেও ভালো লাগছিল, তাই চেষ্টা করেছি সুযোগটা যতটা সম্ভব কাজে লাগাতে।”

নিচের দিকে নেমে অল্প সময়ের মধ্যে ম্যাচের গতি বদলে দেওয়ার মতো ইনিংস খেলা একজন ব্যাটারের জন্য কতটা তৃপ্তির—এমন প্রশ্নে হৃদয় বলেন, একজন ব্যাটারের সবচেয়ে বড় গুণ হলো পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া।

তিনি বলেন, “ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতি ও কন্ডিশনে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া খুব জরুরি। আমি নিচের দিকে ব্যাটিং করেছি, তাই চেষ্টা করেছি যতক্ষণ ক্রিজে ছিলাম দলের জন্য সর্বোচ্চ অবদান রাখতে।”

এলপিএলে একের পর এক বড় ছক্কা হাঁকানো হৃদয়ের কাছে ছক্কা মারা যেন সহজ হয়ে গেছে—এমন মন্তব্যের জবাবে তিনি বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়েও কথা বলেন।

হৃদয়ের দাবি, “আমরা ছক্কা মারতে পারি না, বিষয়টা এমন নয়। গত বছরও বাংলাদেশ দল অনেক ছক্কা মেরেছে। আমরাও পারি। কিন্তু দল হিসেবে যখন ভালো ফল করব, তখন দেখবেন আমাদের জন্য আরও বেশি সুযোগ আসবে। শুধু আমার জন্য নয়, পুরো দলের জন্যই সুযোগ বাড়বে। এজন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দল হিসেবে ভালো ফল করা।”

ম্যাচের ইনিংস বিরতিতে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের সঙ্গে কী কথা হয়েছিল, সেটিও জানিয়েছেন হৃদয়, “সাকিব ভাই ব্যাটিং নিয়ে একটি বিষয় জানতে চেয়েছিলেন। আমি আমার দিক থেকে সেটা বোঝানোর চেষ্টা করেছি। আবার আমারও একটি শট নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।”

শ্রীলঙ্কার উইকেটে ধারাবাহিকভাবে বড় স্কোর হওয়ার কারণ নিয়েও নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন তিনি, “বাংলাদেশেও গত এক-দুই বছরে ভালো উইকেট হয়েছে। তবে এখানে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই ২০০ বা তার বেশি রান হচ্ছে। ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়ম থাকায় সেটাও বড় স্কোর করতে সাহায্য করছে। পাশাপাশি ব্যাটার ও বোলার—দুই পক্ষই ভালো ক্রিকেট খেলছে।”

আগের আম্যাচে ১০১ মিটারের বিশাল এক ছক্কার জন্য যেমন আলাদা পুরস্কার পেয়েছেন, তেমনি এই ম্যাচে ২০ বলে ফিফটি ছোঁয়ার জন্যও পেয়েছেন বিশেষ স্বীকৃতি। তবে এসব অর্জনের কৃতিত্ব নিজের নয়, সৃষ্টিকর্তার প্রতি উৎসর্গ করেছেন হৃদয়।

তিনি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে এমন একটি সুযোগ ভালোভাবে কাজে লাগাতে পেরেছি। একজন ব্যাটার হিসেবে পারফর্ম করলে অবশ্যই ভালো লাগে। আর যখন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে কিংবা বাংলাদেশের হয়ে ভালো খেলতে পারবেন, তখন সেই অনুভূতিটা আরও বিশেষ হয়ে ওঠে।”

২১ বলে অপরাজিত ৫৪ রানের ঝড়ো ইনিংসে জাফনা কিংসকে ফাইনালে তোলার পর তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাট যেমন কথা বলেছে, তেমনি ফুটে উঠেছে তার আত্মবিশ্বাস, দলকেন্দ্রিক মানসিকতা এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আরও উঁচুতে নেওয়ার প্রত্যয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights