আরও বাড়বে মাদকের ঢল!
মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম
বাংলাদেশ-ভারত-মিয়ানমারের আলোচিত ত্রিদেশীয় সীমান্ত এলাকা ব্ল্যাক ট্রায়াঙ্গেল। যার উল্লেখযোগ্য অংশ এখন আরাকান আর্মির দখলে। বিদ্রোহী সংগঠনটির দখলে চলে যাওয়ায় আলোচিত এ এলাকাটিতে মাদক উৎপাদন বৃদ্ধির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে দেশে বাড়বে ইয়াবা, আইসসহ অন্যান্য মাদকের প্রবাহ।
সীমান্ত এলাকার অপরাধ গবেষক ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের উপ-পরিচালক হুমায়ন কবির খোন্দকার বলেন, ‘ব্ল্যাক ট্রায়াঙ্গেলের মিয়ানমার অংশে পুরোপুরি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে আরাকান আর্মি। এখন তাদের প্রচুর অর্থ প্রয়োজন হবে। অর্থের জোগানের জন্য মাদক ছাড়া বড় ধরনের আয়ের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই।’
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘রাখাইনের বড় অংশ আরাকান আর্মির দখলে চলে যাওয়ার কারণে ওই এলাকা আরও অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠবে। বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না থাকায় আরাকান আর্মি মাদক উৎপাদনে মনোযোগী হতে পারে।’
জানা গেছে, কুখ্যাত ‘গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল’ মিয়ানমারের শান স্টেট থেকে আসে বাংলাদেশের ইয়াবা এবং আইসের সিংহভাগ জোগান। বাংলাদেশ-ভারত-মিয়ানমারের অপরাধের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ‘ব্ল্যাক ট্রায়াঙ্গেল’ হয়ে দেশে প্রবেশ করে ইয়াবা ও আইসের বড় বড় চালান। নিকট অতীতে ‘ব্ল্যাক ট্রায়াঙ্গেল’ নিয়ন্ত্রণ কাচিন এবং শান স্টেটের বিচ্ছিন্নতাবাদী কমপক্ষে ১৫টি সংগঠন। যার মধ্যে রয়েছে- আরাকান আর্মি, কাচিন ডিফেন্স আর্মির (কেডিআই), কাচিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (সিএনএফ), আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা), চীন ন্যাশনাল আর্মি, কুকি চীন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ), চীন ডিফেন্স ফোর্স (সিডিএফ), চীন লিবারেশন আর্মি, মিজু ন্যাশনাল ফ্রন্ট (এমএনএফ) অন্যতম। কিন্তু গত কয়েক মাসে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং আরাকান আর্মির মধ্যে তুমুল যুদ্ধ চলছে। যুদ্ধে রাখাইন রাজ্যের ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ১৪টি দখলে চলে যায় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর। যার মধ্যে বাংলাদেশ-মিয়ানমার ২৭০ কিমি সীমান্ত এলাকার মিয়ানমার অংশের পুরোটাই এখন আরাকান আর্মি দখলে নিয়েছে। যার পুরোটাই হচ্ছে কুখ্যাত ব্ল্যাক ট্রায়াঙ্গেলের অংশ। রাখাইনের দখলে বিশাল অংশ আরাকান আর্মি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার কারণে বাড়বে সংগঠন ও অন্যান্য ব্যয়। ওই এলাকায় আয়ের বিকল্প বড় কোনো উৎস না থাকায় আগের মতো সান স্টেট থেকে আসা ইয়াবা ও আইস পাচারের পাশাপাশি আয় বাড়াতে দখলকৃত ভূমিতে তৈরি করবে ইয়াবা ও আইস কারখানা। ব্ল্যাক ট্রায়াঙ্গেল এলাকা পপি চাষের উপযোগী হওয়ায় ব্যাপক হারে বাড়াবে পপি উৎপাদন। যা যোগাযোগ ও অন্যান্য সুবিধার কারণে এসব এলাকায় উৎপাদিত ইয়াবা, আইস এবং পপি পাচারের অন্যতম ক্ষেত্র হবে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ-ভারত-মিয়ানমারের ত্রিদেশীয় দুর্গম প্রায় ৩০ হাজার বর্গকিলোমিটার পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে গঠিত কুখ্যাত ‘ব্ল্যাক ট্রায়াঙ্গেল’। ভারতের মিজোরাম রাজ্য, বাংলাদেশের বান্দরবান ও রাঙামাটি এবং মিয়ানমারের চীন ও রাখাইন রাজ্য মিলে তৈরি হয়েছে অপরাধের অন্ধকার এ জগৎ। হাজার হাজার বর্গকিলোমিটারের এ এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় বাংলাদেশ, ভারত কিংবা মিয়ানমার কোনো দেশেরই নিয়ন্ত্রণ নেই। দুর্গম হওয়ার কারণে কোনো দেশের সরকারই ত্রিদেশীয় এ দুর্গম এলাকায় চালাতে পারে না অভিযান। তাই অপরাধীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে অঞ্চলটি।
