আর্থিক ক্ষতি নয়, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাটাই প্রথম

আশিক উল বারাত

ভারতে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এদিকে কয়েক দফা বৈঠক ও আলোচনার পরও ম্যাচ ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল আইসিসি।

বিসিবি ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই পদক্ষেপ খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এবং দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করলে কিছুটা আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকলেও সবার প্রথমে টাইগারদের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। আইসিসির অংশগ্রহণ ফি, স্পন্সরশিপ ও বিজ্ঞাপন আয়ের সম্ভাব্য ক্ষতি কিছুটা হলেও সবার আগে দেশ।

ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। সেই অবস্থানে তারা অনড় আছেন। যে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটির কোনো পরিবর্তন হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ‘স্বভাবতই, আমরা সবাই চেয়েছি, আমরা যেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পারি। কিন্তু আমাদের যে নিরাপত্তা ঝুঁকি ভারতে খেলার ক্ষেত্রে, সেই ঝুঁকির কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। আমাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এটা কোনো বায়বীয় বিশ্লেষণ বা ধারণা থেকে হয়নি। এটা একটা সত্যিকারের ঘটনা থেকে হয়েছে।’

আসিফ নজরুলের পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনিও জানিয়েছেন, এখনও বিশ্বকাপের ম্যাচ শ্রীলঙ্কাতেই খেলতে চান তারা। এজন্য লড়াই চালিয়ে যাবেন।

আইসিসি থেকে অংশগ্রহণ ফি হিসেবে বাংলাদেশ পেত তিন থেকে পাঁচ লাখ মার্কিন ডলার। এছাড়া টুর্নামেন্টে ভালো পারফরম্যান্স করলে আয়ের পরিমাণ আরও বেড়ে সাড়ে পাঁচ কোটিরও বেশি টাকা পর্যন্ত হতে পারত। আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললে একজন ক্রিকেটারের ম্যাচ ফি সর্বনিম্ন আড়াই লাখ টাকা, সেমিফাইনাল বা ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছালে আরও বেশি। তবে বিসিবি মনে করছে এই আর্থিক ক্ষতি খেলোয়াড়দের জীবন ও জাতীয় স্বার্থের তুলনায় নগণ্য।

ক্রিকেটাররা ইতিমধ্যেই বিসিবির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে এবং নিজেদের নিরাপত্তা ও দেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে তা মেনে নিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights