‘আল্লামা ইকবাল ছিলেন দ্বি–জাতি তত্ত্বের অন্যতম প্রবক্তা’

চবি প্রতিনিধি
আল্লামা ইকবাল জাতিগত বা ভৌগোলিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে ইসলামি মূল্যবোধের ভিত্তিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐক্যকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। তিনি তরুণ প্রজন্মের জাগরণ চেয়েছিলেন। দ্বি–জাতি তত্ত্বের অন্যতম প্রবক্তা হিসেবে তিনি বিশ্বাস করতেন, মুসলমানরা একটি স্বতন্ত্র জাতি এবং তাদের রাজনৈতিকভাবে নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষিত করার অধিকার রয়েছে।

বুধবার (১২ নভেম্বর) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার মিলনায়তনে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) আয়োজিত ‘Allama Iqbal’s Thought on Nationalism’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন পাকিস্তানের ইউনিভার্সিটি অব দ্য পাঞ্জাবের ওরিয়েন্টাল কলেজের ইনস্টিটিউট অব উর্দু ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড লিটারেচারের প্রফেসর ড. বশিরা আমব্রিন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন চবি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. এ. কে. এম. মাহফুজুল হক (মাহফুজ পারভেজ)।

ড. বশিরা আমব্রিন বলেন, আল্লামা ইকবাল পশ্চিমা ভূখণ্ডভিত্তিক জাতীয়তাবাদকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন। তার মতে, ভাষা, বর্ণ বা কেবল জন্মভূমির ভিত্তিতে জাতীয়তা নির্ধারণ মানুষকে বিভেদমুখী করে। বস্তুবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী জাতীয়তাবাদ মানুষের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক দিককে উপেক্ষা করে। তাই তিনি প্রচলিত জাতীয়তাবাদের বিকল্প হিসেবে ‘মুসলিম জাতীয়তাবাদ’ বা ‘মিল্লাত’-এর ধারণা দেন। তার কাছে জাতীয়তার ভিত্তি ছিল ইসলামের তাওহিদ (একত্ববাদ)–ভিত্তিক অভিন্ন আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ–উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ–উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর শামীম উদ্দিন খান বলেন, “আল্লামা ইকবালের মূল চেতনা ছিল ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ভাবনায় জাতি গঠন। তাঁর চিন্তা থেকেই ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব এবং পরবর্তীতে দ্বি–জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত–পাকিস্তানের জন্ম হয়। স্বাধীন বাংলাদেশেরও চিন্তাগত শিকড় এই ধারাতেই নিহিত।” তিনি আল্লামা ইকবালকে নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের আশ্বাস দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর মো. কামাল উদ্দিন বলেন, আল্লামা ইকবাল তার চিন্তায় ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। তিনি পশ্চিমা বস্তুবাদ ও ঔপনিবেশিকতার সমালোচনা করে ইসলামকে পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চবি আইকিউএসি পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। আলোচনায় অংশ নেন লাহোর ইউনিভার্সিটি অব এডুকেশনের প্রফেসর ওয়াহিদুর রহমান, চবি ফারসি বিভাগের ভিজিটিং প্রফেসর ড. মেহরান নাজাফি হাজিবার, চবি আরবি বিভাগের প্রফেসর ড. আ. কে. এম. আবদুল কাদের এবং চবি নজরুল গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ফরিদুদ্দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights