আসবে জেব্রা যাবে বাঘ
রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা। এখানে ছিল ছয়টি জেব্রা। কিন্তু নানা কারণে এরই মধ্যে মারা যায় পাঁচটি। ফলে একা হয়ে যায় জীবিত থাকা জেব্রাটি। তাছাড়া, জেব্রার জন্য নির্ধারিত স্থানের তুলনায় জেব্রা কম।
পক্ষান্তরে, এ চিড়িয়াখানায় আছে ১৭টি বাঘ। স্থানের তুলনায় বাঘ বেশি। তাই চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বাঘের বিনিময়ে জেব্রা আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। সে অনুযায়ী, এখন চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা থেকে সাফারি পার্কে (চিড়িয়াখানা) যাবে তিনটি বাঘ এবং সাফারি পার্ক থেকে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় আসবে ছয়টি জেব্রা। এরই মধ্যে দাপ্তরিক প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই আসছে ছয়টি জেব্রা। এর আগে ২০২৩ সালে রংপুর চিড়িয়াখানা থেকে দুটি বাঘের বিনিময়ে ঢাকা জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে এক জোড়া জলহস্তী আনা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রাণী বিনিময়ের মাধ্যমে জেব্রা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৬ মার্চ নিজস্ব দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে চারটি মাদিসহ মোট ছয়টি জেব্রা আনা হয়েছিল। ওই বছরই দুটি জেব্রা মারা যায়। ২০১৮ সালের ২১ অক্টোবর মারামারিতে আহত হয়ে একটি, একই বছরের নভেম্বরে প্রসবকালীন জটিলতায় একটি এবং ২০২১ সালের ২৯ জুলাই মারামারির ঘটনায় একটিসহ মোট পাঁচটি জেব্রা মারা যায়। ছয়টি জেব্রার মধ্যে বর্তমানে বেঁচে আছে মাত্র একটি। ফলে জেব্রাটি একা হয়ে যায়। তাই জেব্রার একাকিত্ব ঘুচাতে সাফারি পার্ক থেকে জেব্রা সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়। অন্যদিকে, বর্তমানে চিড়িয়াখানায় ১৭টি বাঘ আছে। কিন্তু স্থানের চেয়ে বাঘ বেশি। তাই অতিরিক্ত থাকায় বাঘের বিনিময়ে জেব্রা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে তিনটি বাঘের বিনিময়ে ছয়টি জেব্রা আনা হবে।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, অতীতের পশু বিনিময়ের অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে আবারও বাঘের বিনিময়ে জেব্রা আনা হচ্ছে। এরই মধ্যে অনুমোদনসহ দাপ্তরিক কাজ শেষ। এখন কীভাবে বাঘ যাবে এবং কীভাবে জেব্রা আনা হবে- সে পরিবহন ব্যবস্থাটা নিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই পশু আদান-প্রদান কাজ হয়ে যাবে। প্রয়োজনীয় জেব্রা সংগ্রহ করা গেলে বর্তমানে একা থাকা মাদি জেব্রাটির জন্য সঙ্গী নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় জেব্রার সংখ্যাও বাড়বে।
