ইইউয়ের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শিগগিরই : বাণিজ্যমন্ত্রী
অনলাইন ডেস্ক
শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে শিগগিরই আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর আগে ইইউর সদস্য দেশগুলোর প্রয়োজনীয় সম্মতি নেওয়া হবে। এরপর দুই পক্ষের কারিগরি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হবে।
রবিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন ইইউয়ের রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশনসহ ২৭ সদস্য দেশের রাষ্ট্রদূত। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ইইউয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পথে যেসব বাধা রয়েছে, তার বেশিরভাগই সমাধানের পথে। বিশেষ করে ইইউর উত্থাপিত নন-ট্যারিফ বাধা দূর করতে সরকার কাজ করছে।
বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং ইইউর উত্থাপিত নন-ট্যারিফ বাধা দূর করার অগ্রগতি নিয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
এফটিএ নিয়ে প্রথম দফার আলোচনা কবে শুরু হবে এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ইইউর সঙ্গে এফটিএ ও বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি নিয়ে আলোচনার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে এ বিষয়ে অভিন্ন স্বার্থের জায়গাগুলো খুঁজে দেখতে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, তবে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর আগে ইইউয়ের সদস্য দেশগুলোর সম্মতি প্রয়োজন। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে এ বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর সমর্থন যাচাইয়ের প্রক্রিয়া হবে। এরপর দুই পক্ষের কারিগরি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রাথমিক যোগাযোগ শুরু হতে পারে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আমরা ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছি। বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ, ইইউ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি গন্তব্য।
সম্ভাব্য এফটিএ নিয়ে ইইউরও ইতিবাচক সাড়া রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের পর ইউরোপীয় কমিশন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সদস্য দেশগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হলে চলতি সপ্তাহ থেকেই যৌথ কারিগরি আলোচনা শুরু হতে পারে।
মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশ ও ইইউয়ের মধ্যে এফটিএ হলে তা শুধু শুল্ক কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ই-কমার্স, মেধাস্বত্বের সুরক্ষা, মানবাধিকারসহ সীমান্তের বাইরের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ও আলোচনায় আসবে।
ইইউ সাধারণত অংশীদারদের সঙ্গে উচ্চাভিলাষী বাণিজ্য চুক্তি করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্ভাব্য এফটিএ নিয়েও বিস্তৃত পরিসরে আলোচনা হবে। যথাসময়ে এসব বিষয়ে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী, ব্যবসায়ী ও অন্যান্য অংশীজনকে বিস্তারিত জানানো হবে।
ইইউ রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, উভয় পক্ষের অর্থনৈতিক সহযোগিতা গভীর করতে স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা বজায় থাকলে বাংলাদেশ ও ইইউ উভয়ই লাভবান হবে।
বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সব সময় জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা ও জনগণের প্রয়োজন বিবেচনা করে আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়।
তিনি বলেন, জ্বালানি (এলএনজি) ও খাদ্যশস্য আমদানির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, পণ্যের গুণগত মান এবং অপচয়ের হার বিশ্লেষণ করে সরকারি ক্রয় কমিটি সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে। বাংলাদেশের বাণিজ্যনীতি কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রভাব দ্বারা পরিচালিত নয়; দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণই সব সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি।
