ইন্সটাগ্রাম পোস্টেই মার্কিন সেনাদের সর্বনাশ, দেখে দেখে হামলা করছে ইরান?

অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনরত মার্কিন সেনাদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি তা বাজেয়াপ্ত করার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেনাদের পোস্ট করা ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে ইরান তাদের হামলার গতিপ্রকৃতি পর্যবেক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়ন করছে, এমন গুরুতর উদ্বেগের পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সেনা সদস্যদের এই বিষয়ে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, সাধারণ মনে করে সেনাসদস্যদের অনলাইনে শেয়ার করা বিভিন্ন পোস্ট ইরানকে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রভাব সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে সাহায্য করছে। ইলেকট্রনিক জ্যামিং ও সামরিক কৌশলের কারণে ইরান সাধারণত বুঝতে পারে না যে তাদের ছোড়া অস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে নাকি ১০০ মিটার দূরে পড়েছে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও এবং সেনাদের দেওয়া বিভিন্ন বিবরণ থেকে ইরান খুব সহজেই কোনো খরচ ছাড়াই তাদের হামলার মূল্যায়নের সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে।

বিষয়টির স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে গত ১৭ জুলাই জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানি হামলার ঘটনাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই দিন এক মার্কিন সেনাসদস্য মেটা স্মার্ট গ্লাসের মাধ্যমে সতীর্থদের বাংকারে আশ্রয় নেওয়ার মুহূর্ত রেকর্ড করে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেন। অ্যাডমিরাল কুপার সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের ভিডিও দেখে শত্রু পক্ষ খুব সহজেই তাদের দ্বিতীয় দফার হামলায় লক্ষ্যবস্তু পরিবর্তন করে আরও বড় বিধ্বংসী আঘাত হানতে পারে।

জর্ডানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে কর্মরত সেনাসদস্যদের ইতোমধ্যেই যেকোনো মুহূর্তে ফোন জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। যদিও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে একে নিরাপত্তা বজায় রাখার সাধারণ তাগিদ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে, তবে রয়টার্স নিশ্চিত করেছে যে বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে নীতিগত আলোচনা চলছে। কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে তা ওই অঞ্চলে মোতায়েনরত হাজার হাজার মার্কিন সেনার দেশের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

সূত্র: এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights