ইবিতে বসুন্ধরা শুভসংঘের সাহিত্য আড্ডা

অনলাইন ডেস্ক

শিক্ষার্থীদের মাঝে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং সাহিত্য চর্চা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বসুন্ধরা শুভসংঘ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়(ইবি) শাখার আয়োজনে সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৩ মে) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসি সংলগ্ন ফুটবল মাঠে এই আড্ডার আয়োজন করা হয়।

সাহিত্য আড্ডায় দুই বাংলার জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের জনপ্রিয় উপন্যাস ‘চর কাজলির মানুষ’ এর নানা দিক সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি লেখকের জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়েও আলোচনা করা হয়। এছাড়াও আলোচকরা সাহিত্য চর্চার গুরুত্ব শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরেন।

এ সময় সংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমাজকল্যাণ সম্পাদক নাজমুল হুসাইন, সহ-অর্থ সম্পাদক ফরহাদ খাদেম, বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক তানিম তানভীর, সংগঠনটির সদস্য আরিফ বিল্লাহ, মাওয়াজুর রহমান, জিসান নজরুল ও নাফিজ আহমেদসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

উপন্যাসের আলোচনায় আরিফ বিল্লাহ বলেন, জনপ্রিয় সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের একটি জনপ্রিয় উপন্যাস হলো ‘চর কাজলির মানুষ’। উপন্যাসটি পদ্মার চরে গড়ে ওঠা এক অন্ধকার জগত নিয়ে লেখা হয়েছে। চর কাজলির মানুষ উপন্যাসে নদীভাঙা চরাঞ্চলের মানুষের বেদনা, সংগ্রাম ও টিকে থাকার লড়াই জীবন্তভাবে চিত্রিত হয়েছে। লেখকের সাবলীল ভাষা ও বাস্তবধর্মী বর্ণনা পাঠককে গভীরভাবে নাড়া দেয়, মানবিক অনুভূতি জাগিয়ে তোলে। এটি হৃদয়গ্রাহী ও চিন্তাপ্রসূত একটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম। চরের একজন ভণ্ড নেতার মাদক চোরাচালান ও অপরাধ সাম্রাজ্য, সুরভি নামের এক মেয়ের গানে গানে সেই মানুষদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার গল্প এবং অবশেষে অশুভের বিরুদ্ধে শুভের বিজয়ের কাহিনি এতে ফুটে উঠেছে।

জিসান নজরুল বলেন, চর কাজলির মানুষ উপন্যাসটি আমাদের সমাজের একটি অবহেলিত অংশের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে চরাঞ্চলের অবহেলিত মানুষের জীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরা হয়েছে। চর কাজলির মানুষ উপন্যাসটি শুধুমাত্র একটি সাহিত্যকর্ম নয়, বরং এটি একটি সামাজিক বার্তা। এর প্রতিটি চরিত্রের মধ্যে সমাজের নানা দিক প্রতিফলিত হয়।

নাজমুল হুসাইন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে আমাদের মাঝে বই পড়ার অভ্যাস কমে গেছে। বই মানুষের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে, চিন্তাশক্তি ও কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটায়। একটি ভালো বই আমাদের জীবনের দিকনির্দেশনা দিতে পারে। তাই পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে। ইমদাদুল হক মিলন সাহিত্য নিয়ে প্রচুর কাজ করেছেন। তার দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনন্য অবদান রেখেছেন। তার লেখায় দেশপ্রেম, জীবনসংগ্রাম এবং মানবিক সম্পর্কের টানাপোড়েন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights