ইয়াবা পাচার নিয়ে নাফ নদে গোলাগুলি, দুই রোহিঙ্গা কারবারি আটক

কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা সীমান্তসংলগ্ন নাফ নদে ইয়াবার চালান দখলকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩০ মে) বিকেলে হ্নীলা ইউনিয়নের সুলিশপাড়া সীমান্তঘেঁষা নাফ নদের বাংলাদেশ অংশে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিয়ানমার সীমান্তের দিক থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি এসে একটি জেলে নৌকাকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে তারা নৌকাটির দিকে ফাঁকা গুলি ছুড়তে শুরু করলে নৌকায় থাকা দুই ব্যক্তি প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে হামলাকারীরা নৌকাটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইয়াবা বহনকারী নৌকার মালামাল ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা নৌকা থেকে ইয়াবা, মাছ ধরার জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম লুট করার পর নৌকাটি ডুবিয়ে দেয় বলে জানা গেছে। ঘটনার সময় ঈদ উপলক্ষে বেড়িবাঁধ এলাকায় ঘুরতে আসা বহু মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। অনেকে ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণ করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে হামলাকারীদের হাতে একে-৪৭ ধরনের আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়।

এদিকে গুলির শব্দ শুনে সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে নদী থেকে তীরে উঠে আসা দুই রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়। রাতে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম জানান, নাফ নদের বাংলাদেশ অংশে একটি জেলে নৌকাকে ধাওয়া করে রোহিঙ্গা ডাকাতদলের সদস্যরা। নৌকাটি থামাতে না পেরে তারা এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
এতে নৌকায় থাকা দুই ব্যক্তি নদীতে ঝাঁপ দেন।
বিজিবি জানায়, পরে ডাকাতদলের নৌকাটি সুলিশপাড়া এলাকা হয়ে চর কাব্যিকের দিকে পালানোর চেষ্টা করলে টহল দল তাদের ধাওয়া করে। এ সময় বিজিবি পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।

আটক দুই রোহিঙ্গা হলেন ইমাম হোসেন (২৫) ও নুরুল আমিন (২৩)। তারা উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, আটক ব্যক্তিরা ইয়াবা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গিয়েছিল। প্রতিদ্বন্দ্বী আরেকটি সশস্ত্র চক্র ওই চালান দখলের জন্য হামলা চালিয়ে থাকতে পারে।
বিজিবি জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, নাফ নদে সশস্ত্র রোহিঙ্গা ডাকাতদের তৎপরতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার না করলে সাধারণ মানুষের চলাচল ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।
হ্নীলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, দিবালোকে অস্ত্রধারীদের গুলিবর্ষণের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্ত এলাকায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights