ইরান ইস্যুতে পোপের নামেও ট্রাম্পের ভয়ংকর মিথ্যাচার
অনলাইন ডেস্ক
পোপ লিও চতুর্দশকে নিয়ে একটি মিথ্যা দাবি করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, পোপ লিও ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র রাখার অনুমতি দিয়েছেন।
সিএনএন সঞ্চালক ক্যাটলান কলিন্স যখন ট্রাম্পকে পোপের সঙ্গে তার বিরোধের কারণ জিজ্ঞেস করেন, তখন ট্রাম্প বলেন যে পোপের বিরুদ্ধে তার ব্যক্তিগত কিছু নেই কিন্তু পোপ একটি বিবৃতিতে বলেছেন যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারে, যেখানে ট্রাম্প মনে করেন ইরান তা পারে না।
তবে ট্রাম্পের এই দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং অসত্য। পোপ লিও চতুর্দশ তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বারবার পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে গত বছরের মে মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি একাধিকবার বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন।
গত জুলাই মাসে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলার ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি পারমাণবিক অস্ত্রকে মানবতা ও সৃষ্টির মর্যাদার পরিপন্থী বলে অভিহিত করেছিলেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, পারস্পরিক ধ্বংসের ভয়ের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা নিরাপত্তা আসলে একটি বিভ্রম মাত্র।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পোপ লিও এই সংঘাত বন্ধের জন্য বারবার কূটনীতি ও আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। ভ্যাটিকানের পক্ষ থেকেও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ কেবল একটি স্বপ্ন নয় বরং এটি একটি নৈতিক বাধ্যবাধকতা। ট্রাম্প মূলত পোপের যুদ্ধবিরোধী অবস্থান এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বানকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে দাবি করছেন, পোপ ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দিচ্ছেন। অথচ পোপের কোনো বক্তব্যেই এমন কোনো অনুমোদনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, পোপের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের এই আক্রমণ গত কয়েক দিনে ধাপে ধাপে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন যে পোপ ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র দেওয়া ‘ঠিক মনে করেন’। এরপর তিনি সাংবাদিকদের বলেন যে পোপ এমন কথা ‘বলতে যাচ্ছেন’। আর সর্বশেষ বৃহস্পতিবার তিনি সরাসরি দাবি করে বসলেন যে, পোপ ইতিমধ্যে কথাটি ‘বলেছেন’।
সিএনএনের ফ্যাক্ট-চেক
