ইরান যুদ্ধ: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার ১৪তম দিনে যা যা ঘটছে
অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলের তেহরান আক্রমণ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের পাল্টা আঘাত; হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থার কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং চরম উত্তেজনা। সবশেষ যা যা ঘটছে ১৪তম দিনে দেখুন এক নজরে
১৩ মার্চ, ২০২৬
ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসরায়েল ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরানের মিত্ররা উপসাগরীয় দেশগুলোতে আক্রমণ শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। সংঘাত পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে।
ইরানে পরিস্থিতি
সর্বোচ্চ নেতার প্রথম বক্তব্য: গত সপ্তাহে বাবার হত্যাকাণ্ডের পর নিযুক্ত ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তাঁর প্রথম বিবৃতিতে সতর্ক করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলো বন্ধ না করা পর্যন্ত ইসরায়েল এবং মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা অব্যাহত থাকবে।
তেহরানে ভয়াবহ হামলা: ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তেহরানে “ব্যাপক বিমান হামলা” চালিয়েছে। শুক্রবার সকালে পুরো শহর ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে থাকতে দেখা গেছে।
হরমুজ প্রণালী বন্ধ ও তেলের দাম: ইরান ও ওমানের জলসীমায় অবস্থিত হরমুজ প্রণালীটি কার্যত বন্ধ রয়েছে। ফলে ‘ব্রেন্ট ক্রুড’ তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ইরান জানিয়েছে, এই জলপথ তাদের নিয়ন্ত্রণে এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুক্ত জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ।
বেসামরিক হতাহত: জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত অন্তত ১,৩৪৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রভাব
পাল্টা হামলা: ইরান সেইসব উপসাগরীয় দেশগুলোতে ড্রোন ও মিসাইল ছুড়েছে যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।
বাহরাইন ও সৌদি আরব: বাহরাইন জানিয়েছে তারা এ পর্যন্ত ১১৪টি মিসাইল ও ১৯০টি ড্রোন প্রতিহত করেছে। সৌদি আরব তাদের আকাশসীমায় ৩৮টি ড্রোন ধ্বংস করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE): ইরান দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কিছু হোটেলে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। ইউএই এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
সরিয়ে নেওয়া (Evacuations): অস্ট্রেলিয়া তাদের অ-প্রয়োজনীয় কর্মকর্তাদের মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। কাতার এয়ারওয়েজ আটকা পড়া নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে ১৪০টি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
ট্রাম্পের মন্তব্য: ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ “খুব দ্রুত” এগোচ্ছে এবং মার্কিন সামরিক বাহিনী অপরাজেয়।
অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা: যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০টিরও বেশি সংস্থা যুদ্ধের তহবিল বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। যুদ্ধের প্রথম ৬ দিনেই খরচ হয়েছে ১১.৩ বিলিয়ন ডলার, যা অভ্যন্তরীণ বাজেটে টান ফেলছে।
স্থল সেনা মোতায়েন: মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ইরানে স্থল সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন, তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন।
ইসরায়েল ও অন্যান্য অঞ্চল
ইসরায়েলে মিসাইল বৃষ্টি: শুক্রবার ভোরে ইরান ইসরায়েলের দিকে নতুন করে মিসাইল ছুড়েছে। জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু: ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ইরান যেন তাদের পারমাণবিক প্রকল্পগুলো মাটির নিচে সরিয়ে নিতে না পারে, সেটিই তাদের লক্ষ্য। তিনি ইরানের জনগণকে সরকার পরিবর্তনের জন্য রাস্তায় নামার আহ্বান জানান।
ইরাক ও লেবানন: ইরাকের ইরবিলে ড্রোন হামলায় ৬ জন ফরাসি সেনা আহত হয়েছেন। অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় গত সোমবার থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৬৮৭ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৯৮টি শিশু রয়েছে। প্রায় ৭ থেকে সাড়ে ৭ লক্ষ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন।
সূত্র: আল-জাজিরা
