ইরান যুদ্ধেই নির্ভর করছে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ

অনলাইন ডেস্ক

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ কেবল সামরিক সংঘাত নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শীর্ষ নেতৃত্বের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও। তুর্কি সংবাদ বিশ্লেষক হাক্কি ওজালের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অস্তিত্ব এখন অনেকটাই এই যুদ্ধের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে।

ওজাল দাবি করেন, নিজেদের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা এবং বিচারিক প্রক্রিয়া থেকে রেহাই পেতে একটি কাল্পনিক শত্রু তৈরি করে এই যুদ্ধের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে, ট্রাম্প অভিশংসন ঠেকাতে এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন স্থগিতের পথ খুঁজছেন। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা জরুরি অবস্থা ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচনের ওপর প্রেসিডেন্টের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিশ্চিত করার একটি নির্বাহী আদেশের খসড়া প্রস্তুত করছেন বলেও আলোচনা চলছে।

অন্যদিকে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘুষ, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত। সাজা এড়াতে তার জন্য যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থা বহাল থাকা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। গাজা যুদ্ধ সেই সুযোগ তৈরি করলেও ট্রাম্পের শান্তি চুক্তির উদ্যোগে পরিস্থিতি কিছুটা স্তিমিত হচ্ছিল। ফলে উভয়ের রাজনৈতিক স্বার্থে নতুন এক সংকট প্রয়োজন ছিল বলেই বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, ইরান পারমাণবিক সক্ষমতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে—নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের এই দাবিকে ট্রাম্প এখন রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন।

সমাজবিজ্ঞানী জঁ বদরিলার এর সিমুলেশন তত্ত্বের উদাহরণ টেনে ওজাল বলেন, জনমনে এমন এক ভীতিকর চিত্র আঁকা হচ্ছে যা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। ইরান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কাকে তিনি রাজনৈতিক কৌশল বা কৃত্রিম বাস্তবতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচন বাতিলের পথ প্রশস্ত করতে পারেন বলেও মত দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা। এর প্রভাব নাকি ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জনজীবনে পড়ছে। ১৯৩০ এর দশকের মহামন্দার পর প্রথমবারের মতো দেশটিতে অভিবাসীর চেয়ে দেশত্যাগ করা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে বলা হয়েছে, তথাকথিত জরুরি অবস্থা তৈরির প্রক্রিয়ায় বেসামরিক মানুষ এবং মার্কিন সেনাদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। জেনেভায় পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার সম্ভাবনা থাকলেও সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

ওজালের মতে, ডিজনি ল্যান্ড যেমন একটি কৃত্রিম জগৎ বা হাইপার রিয়ালিটি, তেমনি এই হুমকির চিত্রও এক ধরনের অলীক নির্মাণ। তবে যুদ্ধের বাস্তবতায় ইরান, মধ্যপ্রাচ্যে যে প্রাণহানি ঘটছে, তা একেবারেই বাস্তব।

সূত্র: ডেইলি সাবাহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights