ইরানে আজ রাতে আরও ভয়াবহ হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর সর্বোচ্চ মাত্রার হামলা চালাচ্ছে না। প্রয়োজনে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে আরও বড় হামলা চালানো হতে পারে।

একই সঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে হামলা হলে তা ইরানের আরও অভ্যন্তরীণ এলাকায় পরিচালিত হবে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো- যেমন: সেতু ও সমুদ্রের লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) কেন্দ্র- লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে।

তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের উপকূলের অদূরে অবস্থিত দেশটির অন্যতম বৃহৎ তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ যুক্তরাষ্ট্র চাইলে নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে।

ট্রাম্পের ভাষায়, “আমরা চাইলে খার্গ দ্বীপ দখল করতে পারি। এটি ঠেকানোর মতো কিছুই তেহরানের হাতে নেই।”

তবে কী ধরনের সামরিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে তিনি এ মন্তব্য করেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, “আজ রাতেই বড় ধরনের একটি হামলা হতে পারে।”

এর কিছুক্ষণ পরই প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সাংবাদিকদের বলেন, যদি নতুন হামলা চালানো হয়, তবে তা ইরানের আরও গভীর অঞ্চলে পরিচালিত হবে।

যদিও সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু, সময় কিংবা সামরিক পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি কোনও অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করেননি।

ট্রাম্প ও হেগসেথের এসব মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা, নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থার কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো বা খার্গ দ্বীপে সম্ভাব্য হামলা বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। কারণ, খার্গ দ্বীপ ইরানের তেল রফতানির প্রধান কেন্দ্রগুলোর একটি এবং দেশটির উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল এই টার্মিনাল থেকেই আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়।

এদিকে ট্রাম্পের ধারাবাহিক কড়া বক্তব্যের পরও সম্ভাব্য নতুন সামরিক অভিযানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ইরানের পক্ষ থেকেও এসব মন্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights