ইরানে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করা কে এই যুবরাজ রেজা পাহলভি?

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের রাজপথ ফের উত্তাল। অর্থনৈতিক সংকট আর পশ্চিমা উসকানিতে বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতে দেশটির সাধারণ মানুষ আবারও বড় ধরনের বিক্ষোভে নেমেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলন হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। আর এই উত্তাল পরিস্থিতির নতুন করে আলোচনায় এসেছেন ইরানের শেষ শাহের নির্বাসিত পুত্র এবং সাবেক ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি।

দীর্ঘ সময় নির্বাসনে থাকা পাহলভি এবার সরাসরি ইরানি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নেতৃত্বাধীন বর্তমান ধর্মতাত্ত্বিক শাসনব্যবস্থার পতন না হওয়া পর্যন্ত ইরানিরা যেন ঘরে ফিরে না যায়। তার এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের রাজপথে কিছু বিক্ষোভকারীকে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। অনেকে সরাসরি পাহলভির প্রত্যাবর্তনের দাবি তুলছেন।

বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে তেহরানের বাসিন্দারা রাতভর রাস্তায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও টেলিফোন পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।

ক্লাউডফ্লেয়ার এবং নেটব্লকসের মতো ডিজিটাল অধিকার সংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছে, বিক্ষোভ দমানোর লক্ষ্যেই রাষ্ট্রীয়ভাবে এই পরিষেবাগুলো বন্ধ করা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পাহলভি তার বার্তায় বলেন, সমগ্র বিশ্বের চোখ এখন ইরানের দিকে। তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য রাজপথে নামার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

১৯৬০ সালে তেহরানে জন্ম নেওয়া রেজা পাহলভি হচ্ছেন ইরানের শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি এবং ফারাহ পাহলভির জ্যেষ্ঠ সন্তান। ১৯৬৭ সালে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুবরাজ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। রাজকীয় পরিবেশেই তার শিক্ষা ও বেড়ে ওঠা। তিনি একজন প্রশিক্ষিত পাইলট এবং ১৯৭৮ সালে বিমান বাহিনীর উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ঠিক তার পরের বছরই ইরানে ইসলামি বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হওয়ার মাধ্যমে পাহলভি পরিবার নির্বাসিত হতে বাধ্য হয়। ১৯৮০ সালে বাবার মৃত্যুর পর রেজা পাহলভি নিজেকে ইরানের বৈধ উত্তরাধিকারী হিসেবে ঘোষণা করেন।

নির্বাসিত জীবনে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন এবং গত কয়েক দশক ধরে মূলত যুক্তরাষ্ট্রেই বসবাস করছেন। ২০১৩ সালে তিনি বিরোধী দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে ইরানিয়ান ন্যাশনাল কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করেন। যদিও ইরানে তার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক পদ নেই। তবে তিনি বর্তমান সরকারের কট্টর সমালোচক এবং শক্তিশালী এক বিরোধী মুখ হিসেবে পরিচিত। কথিত গণতান্ত্রিক ইরান গড়ার লক্ষ্যে তিনি এ পর্যন্ত তিনটি বই লিখেছেন। বর্তমান বিক্ষোভে তার সক্রিয় উপস্থিতি এবং সাধারণ মানুষের সমর্থন ইরানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সূত্র: এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights