ইরানে হামলায় আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না সৌদি আরব

অনলাইন ভার্সন

আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। নতুন করে যুদ্ধের শঙ্কা যখন গভীর হচ্ছে, ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।

টেলিফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিকে সরাসরি আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী করলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। অপরদিকে, ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে কোনো দেশকে কোনো অবস্থাতে সৌদি আরবের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না বলে জানিয়েছে রিয়াদ।

মঙ্গলবারের সৌদি যুবরাজ সালমানের সঙ্গে ফোনালাপে সতর্ক করে পেজেশকিয়ান বলেন, ওয়াশিংটনের চাপ ও সামরিক ভাষা শুধু ইরান নয়, গোটা অঞ্চলকেই অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে-যার পরিণতি কারও জন্যই শুভ হবে না।

ইরানি প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, পেজেশকিয়ান সৌদি যুবরাজকে জানান যে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, রাজনৈতিক চাপ ও সামরিক হুমকি ইরানের জনগণের মনোবল ভাঙতে পারেনি। বরং এসব পদক্ষেপ ইরানি সমাজকে আরও ঐক্যবদ্ধ করেছে এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান দৃঢ় করেছে। তাঁর মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ভাঙার এই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবেই।

ফোনালাপে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের প্রতি রিয়াদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, যুবরাজ ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে সংহতির ওপর জোর দিয়ে জানান, সৌদি আরব ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা উত্তেজনা বৃদ্ধির বিরোধী।

এরপর সৌদি সরকারি বার্তা সংস্থা এসপিএ আরও একধাপ এগিয়ে স্পষ্ট বার্তা দেয়-সৌদি আরব তার আকাশসীমা বা ভূখণ্ড কোনো অবস্থাতেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ব্যবহার করতে দেবে না।

ফোনালাপে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বলেন, সৌদি আরব ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করে এবং যেকোনো বিরোধ শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের পক্ষেই অবস্থান নেবে। এই বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা তেহরানের প্রতি এক ধরনের কূটনৈতিক আশ্বাস হিসেবেই দেখছেন।

এই অবস্থানের জন্য সৌদি নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি যুবরাজের উদ্যোগ এবং অবস্থান ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান-সৌদি সম্পর্কের বরফ গলার প্রেক্ষাপটে এই ফোনালাপকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।

সূত্র : আল-জাজিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights