ইরানের ওপর চাপ তৈরি করবে চীন, প্রত্যাশা যুক্তরাষ্ট্রের

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতিকে ‘অত্যন্ত নাজুক’ বলে মন্তব্য করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং-ই। তিনি বলেছেন, নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়া ঠেকানো এবং কঠিন প্রচেষ্টায় অর্জিত যুদ্ধবিরতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সোমবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারের সঙ্গে ফোনালাপে ওয়াং-ই বলেন, যুদ্ধবিরতি নষ্ট করে বা সংঘাত আরও বাড়ায়—এমন যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে।

তিনি আরও জানান, এই সংকট সমাধানে পাকিস্তান বড় ভূমিকা রাখলে চীন তা স্বাগত জানাবে। একই সঙ্গে বেইজিংও এ সংঘাত নিরসনে প্রয়োজনীয় অবদান রাখতে প্রস্তুত রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে চীন ইরানকে চাপ প্রয়োগ করবে। আর এই চাপের ফলে ইরান আবার আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য হবে।

ওয়াশিংটন থেকে প্রতিবেদক অ্যালান ফিশার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো ইরানকে কার্যত অর্থনৈতিকভাবে চাপে ফেলা। এজন্য ইরানের বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানির পথ বন্ধ করা, বিশ্ববাজারে ইরানের প্রবেশাধিকার সীমিত করা এবং তাদের জ্বালানি শিল্পকে কার্যত শ্বাসরোধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, ইরানের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারদের—বিশেষ করে চীনের—মাধ্যমে তেহরানের ওপর চাপ তৈরি হবে।
চীন তার অভ্যন্তরীণ তেলের চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইরান থেকে আমদানি করে আসছে এবং যুদ্ধ চলাকালেও এই আমদানি অব্যাহত ছিল। এখন যদি হঠাৎ চীন ইরানের তেল না পায়, তাহলে সেটি বেইজিংয়ের জন্যও বড় সমস্যা তৈরি করবে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আশা, চীনের ওপর সৃষ্ট চাপ বেইজিংকে তেহরানের ওপর চাপ প্রয়োগে বাধ্য করবে এবং এর ফলে ইরান আবার আলোচনার টেবিলে ফিরে আসবে।

উল্লেখ্য, বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর মাত্র নয় দিন বাকি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করছেন, চীন খুব শিগগিরই তেহরানের ওপর এই চাপ প্রয়োগ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights