ইরানের চাবাহার বন্দরেও হামলা, কেন এটি ভারতের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ?

অনলাইন ডেস্ক

যুদ্ধবিরতি সমঝোতা বাতিল করে আবারও ইরানে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে দেশটির বিভিন্ন শহরে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। এরই মধ্যে ইরানের চাবাহার বন্দরেও হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। ইরানের দক্ষিণ উপকূলের এই বন্দর কৌশলগত দিক দিয়ে ভারতের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেখানেও হামলার ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই অন্য মাত্রাজুড়ে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বুধবার রাতে চাবাহার শহরজুড়েই একের পর এক বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা গেছে। তারপরই শহরের বড় অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের উপর আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকেই অস্থিরতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে পশ্চিম এশিয়ায়। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে কার্যত পুরোদমে যুদ্ধ চলেছে। তখনও চাবাহারে হামলা হয়নি। কিন্তু যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে আবার নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার পরেই এই বন্দরে হামলা তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিশ্লেষকদের একাংশ।

ইরানের দক্ষিণ উপকূলে সিস্তান-বালুচিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত চাবাহার বন্দর ভারত আর ইরান যৌথভাবে গড়ে তুলেছে। বন্দরের একটি টার্মিনাল সম্পূর্ণভাবে ভারত পরিচালনা করে। এখানে ভারতের কোটি কোটি রুপি বিনিয়োগ রয়েছে। পাকিস্তানকে এড়িয়ে ভারত মহাসাগরের মাধ্যমে আফগানিস্তান-সহ মধ্য এশিয়া, ইউরোপ ও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এই বন্দর ভারতের কাছে কৌশলগতভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমেরিকার শঙ্গে শুল্ক চুক্তি নিয়ে টানাপোড়েনের সময় চাবাহার বন্দর ব্যবহারে ভারতের উপরে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন। ঘটনাচক্রে, তার পরই কেন্দ্রীয় বাজেটে (২০২৬-২৭ অর্থবছর) চাবাহার বন্দর প্রকল্পের জন্য নতু করে অর্থবরাদ্দ করেনি ভারত।

ইরানের সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, সেখানকার উপসাগরীয় উপকূলের কাছাকাছি দক্ষিণাঞ্চলীয় দু’টি এলাকা বন্দর আব্বাস এবং সিরিকেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মার্কিন বাহিনীর হামলার বিরুদ্ধে বন্দর আব্বাস এলাকার কাছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে ইরানি বাহিনী।

বুধবার রাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে ইরানে হামলার খবর জানায়। এক্স হ্যান্ডলে তাদের বক্তব্য, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে তাদের বাহিনী হরমুজ প্রণালীতে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ইরানের এই আস্ফালন অযৌক্তিক, বিপজ্জনক এবং যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।” সূত্র: আল-জাজিরা, এই সময়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights