ইরানের তেল কিনছে কারা?
অনলাইন ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা দেশগুলোর বিরুদ্ধে এবার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট একে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি অর্থনৈতিক ডি-ডে হিসেবে অভিহিত করে বিশ্বজুড়ে কঠোর সতর্কবার্তা পাঠিয়েছেন। মূলত যেসব দেশ ইরান থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ক্রয় অব্যাহত রেখেছে, তাদের অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করাই এই পদক্ষেপের লক্ষ্য। যদিও সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি, বিশ্লেষকদের মতে ওয়াশিংটনের মূল নিশানা বিশ্বের সর্ববৃহৎ জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশ চীন।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর কোনো ধরনের আকস্মিক ধাক্কা না দিয়ে তারা অন্যান্য দেশকে তাদের আচরণ পরিবর্তনের সুযোগ দিচ্ছেন। তবে বেসেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের ধৈর্যের সীমা অসীম নয়। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সত্ত্ব বা ব্যক্তি ডলার-ভিত্তিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
ইউএস-চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড সিকিউরিটি রিভিউ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইরানের মোট রফতানি করা তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই একাই ক্রয় করে থাকে চীন। এই জ্বালানি বাণিজ্য থেকে ইরান প্রতি বছর শত শত কোটি ডলার আয় করছে, যা তাদের সরকারি বাজেট ও সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার মূল চালিকাশক্তি। মার্কিন এই কঠোর হুঁশিয়ারির জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা ও চাপের কৌশল কোনো সমস্যা সমাধানের পথ হতে পারে না, এটি কেবল উত্তেজনা বৃদ্ধি করবে। তবে চলমান সংঘাত ও তেল শোধনাগারের ব্যবহার কমায় চীনা বাজারে সম্প্রতি ইরানি তেলের আমদানি আগের ১৪ লাখ ব্যারেল থেকে কমে দৈনিক প্রায় ৭ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে। জ্বালানি বিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, চীনের কাছে পর্যাপ্ত তেলের মজুদ থাকায় আপাতত এই আমদানি বন্ধ হলেও তাদের জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় ধরনের কোনো সংকট তৈরি হবে না।
ইরানি তেলের এই ব্যবসায় কেবল চীনেই সীমাবদ্ধ নয়। পূর্বে ভারতও ইরানের বড় ক্রেতা ছিল, যদিও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা তেল কেনা বন্ধ রেখেছিল, তবে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সম্প্রতিক সময়ে পুনরায় সীমিত আকারে কেনাকাটা চালাতে দেখা গেছে। তাছাড়া বর্তমানে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ছায়াবাহিনীর মাধ্যমে গোপনে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন করা হচ্ছে। এসব জাহাজের মালিকানা ও গন্তব্য গোপন রাখার কৌশল বিশ্ববাজারে সঠিক তেলের হিসাব চিহ্নিত করা কঠিন করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তাপ এবং বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে, যার প্রভাব সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে পাম্পের জ্বালানি তেলের দামে পরিলক্ষিত হচ্ছে।
সিএনএনের বিশ্লেষণ
